অনন্যা সরকার, কলকাতা: সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, ইউডিআইএসই (UDISE) পোর্টালে সঠিক তথ্য আপলোড না করলে নির্দিষ্ট স্কুলগুলোর ইউডিআইএসই নম্বর বাতিল করা হবে। এখনও সরকারি পোর্টালে বেশ কিছু বেসরকারি স্কুলের (Private School) তথ্য অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সোমবার এবিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
একাধিক বেসরকারি স্কুলের ইউডিআইএসই নম্বর বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা
অভিযোগ উঠেছে যে, শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও অনেক বেসরকারি স্কুল ইউডিআইএসই পোর্টালে নির্দিষ্ট তথ্য আপলোড করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে, সরকারি নথিপত্রে এই স্কুলগুলির শিক্ষার্থীর সংখ্যা শূন্য বা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম দেখাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন যে, এই ভুল তথ্য রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্রকে বিকৃত করে। তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, তা না করলে স্কুলগুলোর ইউডিআইএসই নম্বর বাতিল করা হবে।
সোমবার কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বেসরকারি স্কুলগুলোর উদ্দেশ্যে কড়া সতর্কবার্তা দেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত বেসরকারি স্কুলকে ইউডিআইএসই পোর্টালে সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য আপলোড করতে হবে। অন্যথায়, তাদের ইউডিআইএসই নম্বর বাতিলের মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। দীপক বর্মনের কথায়, এই ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নিয়েও ওই স্কুলগুলি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সোমবারের অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক এবং এসসিইআরটি (SCERT)-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সক্রিয় বর্ষা-নিম্নচাপের প্রকোপে দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায় বৃষ্টির ভ্রূকুটি, আজকের আবহাওয়া
এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষামন্ত্রী ওইদিন স্কুল পরিদর্শনের গুরুত্বের ওপরও বিশেষভাবে জোর দেন। তিনি জানান যে, জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (District School Inspectors) কাজের সুবিধার্থে সরকার বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা করার কথাও ভাবনা চিন্তা করছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি এনসিইআরটি (NCERT)-এর সহযোগিতায় শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: নৈহাটির থেকে চালু হচ্ছে শিলিগুড়ি, দিঘা ও পুরীর বাস পরিষেবা
দীপক বর্মন উল্লেখ করেন যে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এনসিইআরটি যে নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করতে চলেছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা রাজ্যের তরফে প্রদান করা হবে। ২০২৮ সালের পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেন, তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া, মন্ত্রী এদিন বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যেসব অভিযোগ জেলা পরিদর্শকের (DI) পর্যায়েই সমাধান হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে। তার কথায়, প্রয়োজনে দফতরের মাধ্যমে ডিআই-দের নির্দেশ দিতে হবে যাতে তাঁরা দ্রুত সমস্যাগুলির সমাধান করেন।










