সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাইডারদের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন, কীভাবে বাইক চালালে মাইলেজ (Mileage) বেশি পাওয়া যাবে? আসলে বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ গাড়িতে ইঞ্জিনের ক্ষমতা বেশি হওয়ায় মাইলেজ অনেক কম পাওয়া যায়। তবে এতে শুধুমাত্র গাড়ির দোষ দিলে হবে না। নিজের চালানোর উপর এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের উপরেও নির্ভর করে মাইলেজ। আজ এই প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি টিপস দেব, যেগুলি মেনে চললে গাড়ির মাইলেজ দ্বিগুণ বাড়বে!
ঠিকভাবে চালান গাড়ি
আসলে গাড়ি চালানোর উপরেই নির্ভর করে মাইলেজ। রাফ গাড়ি চালালে দ্রুত জ্বালানি দক্ষতা কমে যায়। বিশেষ করে হঠাৎ করে স্পিড তোলা, খুব জোরে ব্রেক করা বা ইঞ্জিনের গতি অতিরিক্ত বাড়ানোর কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ে। যানজটের মধ্যে যত বেশি ক্লাচ চাপবেন, তত জ্বালানির ক্ষয় বেশি হবে। তাই যদি মসৃণভাবে গাড়ি চালাতে পারেন, তাহলে মাইলেজ অনেক বেশি পাওয়া যায়। এমনকি এর পাশাপাশি প্রয়োজনের বাইরে ব্রেক করাও উচিত নয়।
সঠিক সময়ে গিয়ার বদল
ইঞ্জিনের কর্ম দক্ষতাকে সবথেকে বেশি প্রভাবিত করে গিয়ার নির্বাচন। যদি লো গিয়ারে বেশি স্পিডে গাড়ি চালান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় কারণে হাই আরপিএম-এ গাড়ি চলতে থাকে। একইভাবে যদি খুব কম গতিতে বেশি গিয়ারে গাড়ি চালান, তাহলেও ইঞ্জিনের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে মাইলেজ অনেকটাই কমে যায় গাড়ির। তাই সবসময় চেষ্টা করুন, গাড়ির ইঞ্জিন হিসেবে গতি বজায় রেখে গিয়ার চেঞ্জ করার।
স্থির রাখুন রাইডিং-র গতি
হঠাৎ করে ঘন ঘন গতি বাড়ানো বা গতি কমানোর ফলে জ্বালানি ক্ষমতা অনেকটাই কমে। কারণ, ইঞ্জিনকে ক্রমাগত গতি ফিরে পাওয়ার জন্য বেশি পরিমাণ কাজ করতে হয়। এতে জ্বালানি ক্ষয় আরও বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন, সামঞ্জস্যপূর্ণ গতি বজায় রেখে গাড়ি চালানোর। এমনকি ধীরে ধীরে গতি বাড়ান বা কমান।
অতিরিক্ত সময় ইঞ্জিন চালু রাখা বন্ধ করুন
যখন যানজটের মধ্যে কিংবা অন্য কোনও জায়গায় গাড়ি নিয়ে দাঁড়াবেন, তখন চেষ্টা করুন গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করার। কারণ, অযথা গাড়ির জ্বালানি ক্ষয় হলে মাইলেজ অনেকটাই কমে যেতে পারে। এমনকি এখনকার যুগের আধুনিক মোটরসাইকেলগুলি খুব কম সময়ে গরম হয়ে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু রাখলে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ক্ষয় হয়।
টায়ারের সঠিক চাপ বজায় রাখুন
মাইলেজ কমার পেছনে অন্যতম বড় কারণ টাওয়ারে প্রেসার। টায়ারে যদি হাওয়া কম থাকে, তাহলে ইঞ্জিনকে বেশি পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়। আর এতে জ্বালানি ক্ষয় বেশি হবে এটা স্বাভাবিক। যার ফলে ধীরে ধীরে মাইলেজ কমতে থাকে গাড়ির। তাই টায়ারে পর্যাপ্ত পরিমাণ হাওয়া রেখেই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: সৌভাগ্য যোগে অর্থবৃষ্টি, ভাগ্য ইউটার্ন মারবে ৫ রাশির! আজকের রাশিফল, ২৫ আগস্ট
নিয়মিত সার্ভিস করুন
মাইলেজ কমার আরও একটি বড় কারণ, নিয়মিত সার্ভিস না করা বা ইঞ্জিন অয়েল না পাল্টানো। গাড়ি অন্তত 1500 থেকে 2000 কিলোমিটার চালানোর পর একবার করে সার্ভিস করুন। পাশাপাশি সার্ভিসের সময় অবশ্যই মবিল বা ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করুন। নিয়মিত সার্ভিসের ফলে গাড়ির মাইলেজ অনেকটাই বাড়ে। আর যদি দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিস না করে গাড়ি চালান, তাহলে ধীরে ধীরে মাইলেজ কমে যায়।










