প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর মাত্র দশ দিন বাকি। আর সেই আবহে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। আসলে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পর্ব নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে আদতেও কি ভোট চুরির মত ভয়ংকর সমস্যা এড়াতে পারবে কমিশন। তাই এবার ভোট চুরি ঠেকাতে পোলিং বুথে বায়োমেট্রিক স্ক্যানের (Biometric System For Voters) দাবিতে জনস্বার্থ মামলা করলেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়।
ছাপ্পা ভোট রুখতে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে
প্রতিবার রাজ্যে নির্বাচনের সময় অভিযোগ ওঠে ছাপ্পা ভোট বিরুদ্ধে। কখনও শাসকদল অভিযোগ তুলছে বিজেপি ছাপ্পা ভোট করাচ্ছে অন্যদিকে আবার বিরোধীদল পাল্টা আঙুল তুলছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। তাই এবার যাতে সেই সমস্যা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে না ঘটে তার জন্য বায়োমেট্রিক এর আবেদন জানালেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়। রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলাটি করেন। তাঁর বক্তব্য, “ঘুষ, প্রভাব খাটানো, পরিচয় ভাঁড়ানো, দু’বার করে ভোট দেওয়া বা ভূতুড়ে ভোটদান! এ সবের ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সততা নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
পরবর্তী ভোটগুলিতে চালু হবে এই নিয়ম!
সূত্রের খবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলাটির অভিযোগ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পর্যায়ে সেখানে এই ধরনের নতুন ব্যবস্থা চালু করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে পরবর্তী লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, তা বিবেচনা করে দেখা হবে। এরপরই মামলাকারী আবেদন জানান যে আদালত যাতে বিষয়টি যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখে এবং মামলার প্রেক্ষিতে সব পক্ষকে নোটিস পাঠানোর আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে জলপাইগুড়িতে ৪০ জন পেলেন ভারতীয় নাগরিকত্ব
জানা গিয়েছে, মামলাকারী বিজেপি নেতা ও আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র এবং বেশ কিছু রাজ্য-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, “পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলির আগে এই ধরনের পদক্ষেপ করা উচিত কি না, তা খতিয়ে দেখতেই নোটিস জারি করা হল।” এদিকে সন্ত্রাসমুক্ত ভোট করতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী কোনও সরকারি কর্মী ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


