আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: মুম্বই (Mumbai) থেকে হাওড়াগামী (Howrah) গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে (Gitanjali Express) এক ক্যান্সার পেশেন্টের (Cancer Patient) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে রেল কর্তৃপক্ষের (Railway Authority) জরুরি পরিষেবা ও যাত্রী পরিষেবা। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সি সেই ব্যক্তির মৃত্যু হলেও দীর্ঘ সময় তাঁর দেহ কামরা থেকে সরানো হয়নি, কোনওরকম পদক্ষেপ না নিয়ে ওইভাবেই ফেলে রাখা হয়েছিল। শনিবার, ২৪ অক্টোবরের এই ঘটনায় মৃতের দেহ শেষ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের টাটানগর স্টেশনে নামানো হয়। মৃত ব্যক্তির নাম বিনোদ পাসওয়ান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভাটপাড়ার বাসিন্দা। মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ক্যানসারের চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় ১২৮৫৯ নম্বর গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসের এম-২ কামরায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যাচ্ছে।
খবর দেওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, দাবি যাত্রীদের
যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে ট্রেনের মধ্যেই বিনোদের মৃত্যু হয়। সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই-কে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁদের। সেই সময় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরও বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও দেহ সরানোর ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে অন্য যাত্রীদের মৃতদেহের পাশেই বসে দীর্ঘ যাত্রা চালিয়ে যেতে হয়। পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং দেহ নামানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
অভিযোগ, বারবার জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ এক যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ট্যাগ করার পাশাপাশি রেলের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ‘রেল মদদ’-এর মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়।
যাত্রীদের অভিযোগের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে সময়ের পার্থক্য রয়েছে। চক্রধরপুর রেল ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার আদিত্য চৌধরি জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ১২৮৫৯ নম্বর ট্রেনের এম-২ কামরায় এক যাত্রী অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বলে তাঁদের কাছে খবর আসে। রেল আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেনটি টাটানগর স্টেশনে পৌঁছনোর পর সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করেন এবং মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাত প্রায় ৮টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি টাটানগরে পৌঁছয়। এরপরই দেহ ট্রেন থেকে নামানো হয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফলে রেলকর্মীদের কাছে প্রথম কখন খবর পৌঁছেছিল এবং খবর পাওয়ার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস নিজেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ ঘণ্টা দেরিতে চলছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ যাত্রায় ট্রেনের পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, কামরাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হচ্ছিল না এবং শৌচাগারের অবস্থাও ছিল অত্যন্ত খারাপ। দীর্ঘ সময় ট্রেন দেরিতে চলায় খাবার ও পানীয় জলের জোগান নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিশেষত শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি ও মহিলাদের অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার টাকায় মদ খাচ্ছেন স্বামীরা, কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে নদীয়ায় বিক্ষোভ মহিলাদের
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা কুণাল সারঙ্গি। তিনি রেলমন্ত্রীকে ট্যাগ করে এই ঘটনার সমালোচনা করেন এবং গোটা বিষয়টিকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন।










