চোরবাগান কাণ্ড থেকে শিক্ষা, নৈহাটির বড়মার মন্দির নিয়ে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের

Published:

Boro Maa Naihati

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের বাইরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত এখনও তাজা। ১৭ অক্টোবরের ওই বিপর্যয়ে বহু মানুষ আহত হন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টি, অতিরিক্ত ভিড় এবং মানুষের হুড়োহুড়ি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। এই ঘটনার পর উৎসবের মরশুমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নৈহাটির (Naihati) কালীপুজোতেও (Kali Puja) যাতে এমন কোনও মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার?

নৈহাটির বড়মার কালীপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। সেই ভিড় সামাল দেওয়া এবং বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এবার আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রবিবার নৈহাটিতে বড়মার মন্দির চত্বর ও বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শন করেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। খুঁটিপুজোয় উপস্থিত থেকে তিনি জানান, চোরবাগানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগে থেকেই ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিমা বিসর্জনের প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, “চোরবাগানের ঘটনা আর হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আমরা আগে থেকে ব্যারিকেড দিয়ে দেব। প্রতিমা কীভাবে বিসর্জন হবে সবটা দেখে নেব। এছাড়া পুলিশ, NGO আমাদের কার্যকর্তা সবই থাকবে।”

প্রশাসনের অনুমান, এবছর নৈহাটির বড়মার মন্দিরে দর্শন করতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে পারে। ফলে মন্দির চত্বর, আশপাশের রাস্তা, নৈহাটি স্টেশন থেকে আসার পথ এবং গঙ্গার ঘাটে ভিড় সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। চোরবাগানের ঘটনার পর সেই আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়েই আগাম পরিকল্পনা করছে পুলিশ ও পুজো কমিটি। অন্যদিকে, নিরাপত্তা জোরদার করতে একমুখী যাতায়াতের ব্যবস্থা, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং ৫০০-রও বেশি স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ, র‍্যাফ, অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিসর্জনের সময়ও যাতে কোনও বিপর্যয় না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গাইঘাটায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে নৃশংস খুন! আটক এক আত্মীয়

চোরবাগানকাণ্ডের পর মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তার পরের দায়িত্বটা পালন করতে হবে।” প্রিয়জনকে হারানো পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়ানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। চোরবাগানের ক্ষতিপূরণহীন শোক মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার নৈহাটির বড়মার কালীপুজোয় আগাম নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

google button