আপনার কাছে কতটা চিনি মজুদ আছে জানাতে হবে সরকারকে! বিপাকে অসাধু ডিলাররা

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চাল, ডাল, আটার মতোই দৈনন্দিন রন্ধনশালার অপরিহার্য উপাদান চিনিও (Sugar)। এবার সেই শর্করা সমৃদ্ধ দানা শস্যটিকে নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সরকার (Central Government)। আসলে সাধারণ মানুষ যাতে ন্যায্য মূল্যে চিনি পেতে পারেন এবং বাজারে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি মজুদ থাকে সেটা নিশ্চিত করতেই এবার উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই মর্মে, কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক চিনির ডিলারদের কঠিন শর্ত বেঁধে দিল।

আগামী পহেলা আগস্ট থেকেই কার্যকর হবে নতুন নিয়ম

নরেন্দ্র মোদি সরকারের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী পহেলা আগস্ট থেকে দেশের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিনির ডিলারদের তাঁদের কাছে ঠিক কত পরিমাণ চিনি মজুদ রয়েছে সরকারকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সেই সঠিক তথ্য জানাতে হবে। ডিলার প্রত্যেক সপ্তাহে এই তথ্য জানাবেন খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগের পোর্টালে। শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে একজন ডিলার সর্বোচ্চ 4,000 কুইন্টালের বেশি চিনি মজুদ রাখতে পারবেন না।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোটা মাসের মধ্যে প্রথম সপ্তাহে চিনির মজুদ সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করে দিলেই নিস্তার নেই! বরং, প্রত্যেক সপ্তাহে সেই তথ্য আপডেট করে যেতে হবে ডিলারকে। আসলে ডিলাররা যাতে অবৈধভাবে গোপনে চিনি আলাদা করে মজুদ রেখে তা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করতে না পারেন অর্থাৎ চিনির কালোবাজারি রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

অবশ্যই পড়ুন: লাগবে না যোগ্যতা! হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে চাকরি, চলছে আবেদন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার চিনির স্টক হোল্ডিং লিমিট সেট করে দেওয়ায় এবং নিয়মিত চিনির মজুদ পরীক্ষা করার কারণে আর চিনির ডিলাররা বাজারে ন্যায্য মূল্যে চিনি বিক্রি না করে লুকিয়ে রাখতে পারবেন না! যার ফলে বাজারে চিনির ঘাটতি যেমন তৈরি হবে না, তেমনই সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যের চিনি কিনতে পারবেন। শোনা যাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে এই নির্দেশ পহেলা আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসের 30 তারিখ পর্যন্ত বৈধ। যদিও পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়াতে পারে সরকার।