অনন্যা সরকার, কলকাতা: চলতি বছরই কার্যকর হতে চলেছে জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি। ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে খসড়া (Draft National Electricity Policy 2026)। মনে করা হচ্ছে নতুন নীতিটি খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হবে। এরপর এই নীতি প্রয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। নতুন নীতিটি কার্যকর হলে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময়ের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশ জুড়ে একটি নয়া মাশুল ব্যবস্থা চালু হবে। আসুন এসম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
নতুন ব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?
এই ব্যবস্থাটি আগেই কয়েকটি রাজ্যে চালু করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে স্মার্ট মিটার স্থাপন থেকে শুরু করে পদ্ধতিগত বাধার মতো বেশকিছু সমস্যার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু নতুন বিদ্যুৎ নীতি চালু হওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে সময়-ভিত্তিক বিদ্যুৎ মাশুল নীতির বাস্তবায়ন। বর্তমানে, ২৪ ঘণ্টা একই হারে বিদ্যুতের জন্য চার্জ করা হয়, যদিও প্রতি-ইউনিট চার্জের জন্য নির্দিষ্ট স্ল্যাব রয়েছে। কিন্তু নতুন নীতিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি স্বতন্ত্র সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, এগুলি হল – ‘পিক আওয়ার’, ‘অফ-পিক আওয়ার’ এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড আওয়ার’। এই ব্যবস্থাটিকে ‘টাইম অফ ডে’ (ToD) ট্যারিফ বলা হয়।
জাতীয় বিদ্যুৎ নীতির সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে যে, ‘পিক আওয়ার’, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের চার্জ সর্বোচ্চ এবং ‘অফ-পিক আওয়ার’, অর্থাৎ রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তা কম হবে। আর ‘স্ট্যান্ডার্ড আওয়ার’ বা সাধারণ সময় থাকবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ফলে জলের পাম্প, গিজার, মিক্সার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ওয়াশিং মেশিন চালানোর মতো বেশি বিদ্যুৎ নির্ভর কাজগুলি যদি ‘অফ-পিক আওয়ার’-এর সময় করা হয়, তাহলে বিদ্যুতের বিল তুলনামূলকভাবে কম আসবে।
আরও পড়ুন:কাউন্টার বা এটিভিএম নয়, এবার চলন্ত অবস্থায় হাতেই ট্রেনের টিকিট! নয়া ব্যবস্থা পূর্ব রেলের
যদিও এই ব্যবস্থাটি আগে কমার্শিয়াল কানেকশনগুলির জন্য প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও এটি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়, যা বাস্তবায়িত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা থাকলেও, স্মার্টমিটার স্থাপনের কাজ ব্যাপকভাবে না করার ফলে নিয়ম বলবৎ করা যায়নি। তবে, কেন্দ্রের নির্দেশে এই নিয়মটি শীঘ্রই রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে পারে।










