বার্ড ফ্লু আতঙ্কে মারা হল লক্ষাধিক মুরগিকে, ডিম বিক্রিও বন্ধ রাজ্যে

Published:

bird flu

সহেলি মিত্র, কলকাতা: আবারো একবার বার্ড ফ্লু (Bird Flu) আতঙ্কে কাঁপছে সমগ্র রাজ্য। এই আতঙ্কের মাঝেই প্রশাসনের তরফে বিরাট বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। মেরে ফেলা হলো লক্ষাধিক মুরগিকে হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার নাভাপুর এলাকায় বার্ড ফ্লু আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং এইচ৫এন১ (H5N1) ভাইরাসটি প্রবেশ করার পর প্রশাসন এখন তৎপর হয়েছে। নাভাপুরের তিনটি পোল্ট্রি ফার্মের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর ১ লক্ষ ৪০ হাজার মুরগিকে শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ফের বার্ড ফ্লু আতঙ্ক রাজ্যে

জানা গিয়েছে, মুরগির পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ ডিমও নষ্ট করা হবে, ফলে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নওয়াপুর এলাকায় মোট ২৭টি পোল্ট্রি খামারে প্রায় ১২ লক্ষ মুরগি পালন করা হয়। মুরগির জন্য অনুকূল পরিবেশের কারণে এই ব্যবসাটি ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে। তবে, উদ্বেগ বেড়েছে কারণ বর্তমানে সাতটি পোল্ট্রি খামারের মুরগিগুলিকে মেরে ফেলা হচ্ছে। এই মুরগিগুলোকে বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। সেইসঙ্গে লক্ষ লক্ষ ডিমও নষ্ট করা হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার

এদিকে, নওয়াপুর শহরে মুরগি, ডিম এবং বিরিয়ানি বিক্রি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ অভিযানের জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ শতাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, পশুচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং সহায়ক কর্মী মোতায়েন করেছে। নাসিক থেকে একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল নওয়াপুরে পৌঁছেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। নওয়াপুরের ডায়মন্ড পোল্ট্রি ফার্মে ১৪ এপ্রিল কিছু মুরগির আকস্মিক মৃত্যুর পর, নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ভোপালের একটি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। সেগুলোতে বার্ড ফ্লু নিশ্চিত হওয়ার পর, প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়।

আরও পড়ুনঃ রেলের হাসপাতালে পেপারলেস চিকিৎসা, UMID কার্ডে মিলবে সব সুবিধা

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগবে এবং এর জন্য ২৫টি দল গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য জেলা থেকেও লোকবল আনা হয়েছে। এরই মধ্যে, অন্যান্য পোল্ট্রি খামার থেকেও নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে চিন্তা নেই, কারণ পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে সরকার সহায়তা ঘোষণা করেছে। বড় ঝাঁকের জন্য ১৪০ টাকা, ছোট ঝাঁকের জন্য ১২০ টাকা এবং প্রতিটি ডিমের জন্য ৪ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।