ভারতে পরিষেবা চালুর আগে ফের বড় ঝটকা খেল ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক

Published:

Starlink

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক (Starlink)। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারি ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে সংস্থাটিকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে। এবার সামনে এল আরও এক বড় বাধা। নতুন এক রিপোর্ট অনুযায়ী, স্টারলিঙ্কের অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট (Satellite Internet) প্রযুক্তি নিয়ে এবার ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

স্টারলিঙ্ক নিয়ে আরও বড় সমস্য

জানা গিয়েছে, স্টারলিঙ্ক যে ধরনের ইন্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই প্রযুক্তি নিয়ে ভারত সরকার যথেষ্ট সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে। কারণ, এই ব্যবস্থায় ডেটা দেশের সীমা ছাড়িয়ে অন্য দেশের মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন টেক বিশেষজ্ঞরা।

আসলে স্টারলিঙ্ক বর্তমানে লেজার ইন্টার স্যাটেলাইট লিংক বা এলআইএসএল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশে থাকা এক স্যাটেলাইট অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি লেজার বিমের সাহায্যে আদান-প্রদান করতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিটি ডেটা ট্রান্সফারের জন্য সব সময় পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনের দরকার পড়ে না। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই বেড়ে যায়, এবং পরিষেবা আরও দ্রুত এবং শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকায় দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।

তবে এই প্রযুক্তি নিয়েই এখন মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। কারণ, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন স্যাটেলাইটগুলো নিজেদের মধ্যে সরাসরি ডেটা আদান-প্রদান করে তখন সেই তথ্য কোন পথে যাচ্ছে তা ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে যারা দাঁড়ায়। ভারত সরকারের আশঙ্কা, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল তথ্য অন্য দেশের নেটওয়ার্ক বা নজরদারি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলে যেতে পারে। এমনকি শত্রু দেশের হাতেও ডেটা পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিষয়টি ইতিমধ্যে স্টারলিঙ্ক সহ বিভিন্ন স্যাটেলাইট যোগাযোগ সংস্থার সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সেই কারণে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক শর্ত এবার আরোপ করা হতে পারে।

আরও জানা গিয়েছে, স্টারলিঙ্কের পুরোনো কিছু স্যাটেলাইটে এই লেজার লিংক প্রযুক্তি ছিল না। কিন্তু নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যদিও এখনও পর্যন্ত আলোচনা চলছে, যাতে ভারতীয় গ্রাহকদের ডেটা ট্রাফিকের ক্ষেত্রে এই লেজার লিংক সীমিত বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা যায়। অর্থাৎ ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য যাতে শুধুমাত্র দেশের নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সেই দিকে নজরদারি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, নতুন নিয়ম আনল কেন্দ্র

উল্লখ্য, ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন সরকারি দফতর এবং নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে স্টারলিঙ্ক। সূত্রের খবর, গত বছর সংস্থাটি তাদের প্রযুক্তিগত ডেমো দেখিয়েছিল। আর সেখানে নজরদারি ব্যবস্থা, জাতীয় সুরক্ষা এবং স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলেছিল। বিশেষ করে প্রয়োজনে দূর থেকে পরিষেবা চালু বা বন্ধ করায় ক্ষমতা দিয়ে ভারত সরকার এখন অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এখন দেখার, আদৌ স্টারলিঙ্ক ভারতে পরিষেবা চালুর জন্য অনুমোদন পায় কিনা।