সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দেশজুড়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। বর্তমানে কমিশনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে সরকারি কর্মচারী সংগঠন, পেনশন হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছেন। আর সেখান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কর্মচারীদের দাবি-দাওয়ার পরিধি শুধুমাত্র ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা সাধারণ বেতন বৃদ্ধির গণ্ডির ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। তবে কর্মী (Employee) সংগঠনের তরফ থেকে রাখা হয়েছে ৬টি দাবি। কী সেগুলি?
বেসিক পে-র সাথে অন্যান্য ভাতাতে পরিবর্তন
কর্মচারীদের দাবি, বর্তমান অগ্নিমূল্য বাজারে শুধুমাত্র মূল বেতন বাড়ালে সমস্যা সমাধান হয় না। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতাগুলিও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে মেট্রো বা অন্যান্য বড় বড় শহরগুলির কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর দাবি উঠছে। এর পাশাপাশি বাচ্চাদের পড়ালেখার ক্রমবর্ধমান খরচের কথা মাথায় রেখে চিলড্রেন এডুকেশন অ্যালাউন্স বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সঠিক সময় পদোন্নতি
সরকারি চাকরিতে অনেকেরই বড় ক্ষোভ হল যে, বছরের পর বছর ধরেই একই পদে আটকে রাখা হয়। অনেক সময় দীর্ঘ কর্মজীবন কেটে গেলে উপযুক্ত প্রমোশন হয় না। সেই জট কাটাতে সংগঠনগুলির দাবি, অষ্টম বেতন কমিশন যেন ক্যাডার পুনর্গঠনের মাধ্যমেই সঠিক সময় পদোন্নতির রূপরেখা তৈরি করতে পারে। আর যদি কোনও কারণে পদোন্নতি আটকে যায়, তাহলে আর্থিক ইনক্রিমেন্ট দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে।
পেনশনের নিয়ম সরলীকরণ
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জীবন সহজ করার জন্য পেনশনের নিয়মগুলি আরও সহজ করার দাবি উঠেছে। প্রবীণ পেনশনভোগীদের বক্তব্য, অতীতে বিভিন্ন রকম পে কমিশনের নিয়মের গ্যাঁড়াকলে একই পদে পুরনো এবং নতুন অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের অংকে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। আর অষ্টম বেতন কমিশনে এই সমস্ত পুরনো অসঙ্গতি দূর করে সবার জন্য সহজ পেনশন ব্যবস্থার দাবি তোলা হয়েছে।
দ্রুত মেডিকেল বিল এবং ক্যাশলেস চিকিৎসা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার খরচ অনেকটাই বাড়ে। সরকারি কর্মচারীদের অভিযোগ, বর্তমানে চিকিৎসার বিলের টাকা ফেরত পেতে মাসের পর মাস ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি নথিপত্রের ঝামেলা সামলাতে হয়। এছাড়াও সরকারি প্যানেলে থাকা হাসপাতালের সংখ্যা অনেক কম। কর্মচারীদের দাবি, চিকিৎসার এই বিপুল কাগজের প্রক্রিয়া কমিয়ে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হোক। আর হাসপাতালগুলিকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হোক।
সামাজিক নিরাপত্তা এবং গ্রুপ ইন্সুরেন্স আপডেট
বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতির বাজারে পুরনো সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলির উপর নির্ভর করা কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি গ্রুপ ইন্সুরেন্স স্কিম, ডিউটিরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় আর্থিক সাহায্য বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের এককালীন বড় অংকের অর্থ প্রদানের দাবি জানিয়েছে। এই সমস্ত অনুদানের পরিমাণ বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর সুপারিশ গিয়েছে কেন্দ্র সরকারের কাছে।
আরও পড়ুন: মৃত ব্যক্তি থেকে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা পার, ৭ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিল করল সরকার
জাতীয় পেনশন সিস্টেমের সংশয় দূর করা
নতুন পেনশন স্কিম বা এনপিএস সম্পূর্ণভাবে শেয়ার বাজারের ওঠানামার উপরে নির্ভরশীল। এখানে রিটার্ন কখনও সুনিশ্চিত নয়। এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমছে। সংগঠনগুলির দাবি, অবসর জীবনকে সুরক্ষিত করার জন্য শেয়ারবাজারের ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর করা হোক। অবসরের পর যাতে কর্মচারীরা নির্দিষ্ট পেনশনের গ্যারান্টি পায়, সেই ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।










