শিক্ষকদের পদোন্নতিতে জোর! বাংলায় ‘নিষ্ঠা’ প্রকল্প শুরু করছে রাজ্য সরকার

Published:

Nistha Project

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পাশাপাশি এবার শিক্ষাক্ষেত্রেও নজর রেখেছে বিজেপি সরকার। জানা গিয়েছে, শিক্ষাদানের (Education) পদ্ধতিতে খানিক পরিবর্তন আনতে এবার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর হতে চলেছে। শিক্ষকদের আরও সচেতন করতে রাজ্যে চালু হতে চলেছে স্কুলশিক্ষার ‘নিষ্ঠা’ প্রকল্প (Nishtha Project)।

চালু হতে চলেছে নিষ্ঠা প্রকল্প

জানা গিয়েছে, রাজ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য প্রথমবার চালু হতে চলেছে ‘ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর স্কুল হেডস অ্যান্ড টিচার্স হলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট’ বা ‘নিষ্ঠা’। জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক মেনে ‘দীক্ষা’ পোর্টালে এই প্রকল্পের কোর্স চলবে অনলাইনে। প্রথম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে, পরের ধাপে রয়েছে পেডাগজি এবং বিষয়ভিত্তিক, তৃতীয়ভাগে থাকবে বিভিন্ন নতুন থিম, নতুন ভাবনা ও বিষয়ের গভীরে প্রশিক্ষণ। ইতিমধ্যে ২১ এপ্রিল থেকে এই প্রশিক্ষণের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা চলবে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত। যেহেতু পূর্বতন রাজ্য সরকার এ ধরনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিত না তাই আগে প্রকাশিত হয়নি।

তিনটি ধাপে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা

শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু তার প্রভাব কতখানি বাস্তবে পড়ছে, তা বুঝতে ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময় কালের প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মধ্যে সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে দেখা যায় অধিকাংশ শিক্ষকেই জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে যেমন খুব ভাল জানেন না। ঠিক তেমনই লার্নিং আউটকাম সম্পর্কেও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। বহু শিক্ষক আসতেন, বসতেন, খাবার খেতেন, বেরিয়ে যেতেন। তাঁদের পাঠদানে এর কোনো প্রভাব চোখে পড়ত না। তাই এ বার শিক্ষকদের তিনটি ধাপে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে দফতর।

আরও পড়ুন: ফ্রিতে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার ভ্যাকসিন, মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় বাড়তি সুবিধা

বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক না করা হলেও পরবর্তী ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণের শংসাপত্র শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রেও মাপকাঠি হতে পারে এই প্রশিক্ষণের শংসাপত্র। গত ৯ মে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজ্য সরকার। এখন দেখার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পরে বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে নতুন কোনও কর্মসূচি নেওয়া হয় কিনা সেটাও ভাবনার মধ্যে রয়েছে।