প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রেশন পরিষেবায় (Ration) বড়সড় দুর্নীতি! আয়ের ঊর্ধ্বসীমা না মেনে বেআইনিভাবে সুবিধা নিতে গিয়েই বাতিল হল ৭ লক্ষের বেশী রেশন কার্ড (Ration Cards Cancelled)। মাথায় হাত পড়ল গ্রাহকদের। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে, গরিবদের কথা মাথায় রেখেই আবার রেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের ঊর্ধ্বসীমাও বাড়িয়েছে প্রশাসক।
বাতিল লক্ষাধিক রেশন কার্ড
দিল্লিতে ১৩ বছর ধরে নতুন করে রেশন কার্ড দেওয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হতেই বিরাট দুর্নীতির হদিস পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সাংবাদিক বৈঠক করে রেশন দুর্নীতির এক বিরাট তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, “নতুন করে রেশন কার্ড ইস্যু শুরুর আগে পুরনো কার্ডগুলির অডিট করানো হয়েছে। আর সেই অডিটেই ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ১২৩টি এমন নাম পেয়েছে যাঁদের আয় সরকার নির্ধারিত সীমার উপরে। আরও প্রায় ৯৫ হাজার গ্রাহক ১ বছরের বেশি সময় রেশন নেননি। ৬ হাজারের বেশি মৃত ব্যক্তির রেশন কার্ডও সক্রিয় ছিল। তাই সেই সব রেশন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে।”
কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, “এই যে সাড়ে সাত লক্ষের বেশি রেশন কার্ডের জায়গা ফাঁকা হল, সেগুলি পুনরায় পূরণ করা হবে। তাই ১৩ বছর পর নতুন করে রেশন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন নতুন গ্রাহকরা।” দিল্লিতে রেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ১.২ লক্ষ টাকা। তবে গরিব মানুষদের সুবিধার জন্য এবার রাজ্য সরকার আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে গরিব মানুষ, যাদের রেশনের প্রয়োজন রয়েছে, সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহক যাতে রেশনের সুবিধা পান, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে বঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী পূর্বতন তৃণমূল সরকারের রেশন দুর্নীতি নিয়েও বেশ সরব হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় রুপি, দেখুন রেট
প্রসঙ্গত, গতকাল, শুক্রবার, খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া তৃণমূলের আমলে সমবায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি খাদ্য দপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। কোথাও চাষিরা টাকা পাননি, কোথাও ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করা হয়নি, তাই এবার থেকে সমবায় গঠনের সময়ে কোনও জনপ্রতিনিধি তার মাথায় বসবেন না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সমবায় বোর্ডের সদস্যরাই বোর্ডের সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন এবং সমস্ত সমবায় ব্যাঙ্কে নিয়মিত অডিট করতে হবে। পাশাপাশি, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক রেশন ‘নীতি’ নিয়ে বড়সড় কড়া পদক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি।










