পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ডের শেষকৃত্যে আতঙ্ক, অস্ত্রশস্ত্র হাতে কড়া পাহাড়ায় জঙ্গিরা

Published:

Pulwama Mastermind Killed

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-র কনভয়েতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনার অন্যতম মূলচক্রী তথা ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত আল-বদর জঙ্গি অর্জুমন্দ গুলজার ওরফে হামজা বুরহানকে গত পরশুদিন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে (Pulwama Mastermind Killed)। আর গতকাল তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। সূত্রের খবর, অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকবাজের গুলিতে খতম হওয়ার পর শুক্রবার তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানে পাকিস্তানের (Pakistan) শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-র অফিসাররা উপস্থিত থাকেন। তবে গোটা অনুষ্ঠানেই তাড়া করে বেরিয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতা আর আর হামলাকারীদের ভয়।

পাহারা দিল অস্ত্রধারী জঙ্গিরা

আসলে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হামজা বুরহানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির ছিল হিজবুল মুজাহিদীন প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন এবং আল-বদর সুপ্রিমো বখত জমিন খান। এছাড়াও পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-র উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের একাধিক চরম শত্রুর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটছে। যার জেরে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই কারণে সালাউদ্দিন এবং বখত জমিন খানের সুরক্ষায় চারপাশে একে-৪৭ থেকে শুরু করে অন্যান্য আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা। আর উপস্থিত জঙ্গি নেতাদের চোখে মুখেও স্পষ্ট ভয় কাজ করছিল।

জানিয়ে রাখি, দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা অর্জুমন্দ গুলজার ওরফে হামজা বুরহান, যাকে জঙ্গি মহলে ডাক্তার নামে ডাকা হত, তাঁকে ২০২২ সালে ভারত সরকার অফিসিয়াল ভাবে জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর সে ভারতের চোখ এড়িয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায়। আর সেখানে গিয়েই আল বদর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়।

আরও পড়ুন: চিনে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা, মৃত ৯০ শ্রমিক, আহত শতাধিক

এমনকি বিগত কয়েক বছর ধরে সে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোজাফফরপুরবাদে নাম ভাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ গা ঢাকা দিয়ে ছিল। আর সেখানে একটি বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করছিল সে। পাকিস্তানী পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি মোজাফফরপুরবাদে অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁর মাথায় তিনটি গুলি করে খুন করা হয়। এক অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকবাজই তাঁকে প্রাণে মেরেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। পাকিস্তানী পুলিশের দাবি, তারা এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যাকে স্থানীয় মানুষজন পালানোর সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেছিল।