অনন্যা সরকার, উত্তরাখণ্ড: বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ভালো ডিগ্রি অর্জনের পর এমন চাকরির সন্ধানে থাকে, যা উচ্চ বেতন ও উচ্চ পদের পাশাপাশি আরামদায়কভাবে জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে। আর এটি অর্জনের জন্য মানুষ বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু উপযুক্ত শিক্ষা লাভের পর, দেশের কোনো নামকরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর, কেউ কি একদিন অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা – সবকিছু ত্যাগ করে পাহাড়ে গিয়ে বসবাস করতে পারে? সিনেমার গল্পের মতো শোনালেও, গঙ্গোত্রী পাহাড়ের এক সন্ন্যাসীর (Monk) একটি ভাইরাল ভিডিও তুলে ধরেছে তাঁর জীবনকাহিনী। সেখানে দাবি করা হয়েছে সন্ন্যাস গ্রহণের আগে তিনি ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (BARC)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। কী কী তথ্য উঠে এসেছে, তাঁর জীবন সম্পর্কে – আসুন দেখে নেওয়া যাক।
সফল কর্মজীবনের সব মায়া ত্যাগ করে পাহাড়ে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন
ভিডিওটিতে ওই সন্ন্যাসী জানিয়েছেন যে, ২০০২ সালে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেন ও পরবর্তীতে এম.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাধারণত, এরকম প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা একজন তরুণের জন্য দেশে বা বিদেশের বড় শহরে ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন ও আরামদায়ক জীবন গড়ার পথ প্রশস্ত করে। কিন্তু তিনি ধীরে ধীরে জাগতিক সমস্ত চাহিদা ও স্বাচ্ছন্দ্য থেকে সরে এসে সন্ন্যাস জীবন বেছে নেন।
পাহাড়ের মাঝে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে থাকার সময় তাঁর প্রাক্তন বস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। নিজের অধঃস্তনের এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি পাগল হয়ে গেছ?” একজন মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারের হঠাৎ সবকিছু ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, তাই এমন প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন: সোনায় বিনিয়োগ করে ২৭৫% রিটার্ন, কয়েক বছরেই টাকা প্রায় ৪ গুণ করল কেন্দ্রের এই স্কিম
ভিডিওতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আজকের যুগে মানুষ প্রায়শই উচ্চপদ, মোটা টাকা বেতন এবং সম্পদের পেছনে ছোটেন। অথচ তাঁর মতে, জীবন কেবল অর্থ উপার্জন বা পেশাগত সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর মতে, জন্ম ও মৃত্যু আগে থেকেই নির্ধারিত, আর এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সংক্ষিপ্ত সময়টুকুই হলো প্রকৃত জীবন। তাই এই মূল্যবান সময়টিকে সচেতনভাবে ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজে লাগানো জরুরি।
View this post on Instagram
তাঁর এই কাহিনী ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে। অনেক নেটনাগরিক তাঁর কর্মজীবনের সঙ্গে বর্তমান সন্ন্যাসজীবনের বৈপরীত্য নিয়ে আলোচনা করছেন এবং অনেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে, সাফল্যের সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম হয়। কারো কাছে ক্যারিয়ার ও পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আবার কেউ আধ্যাত্মিকতার মাঝে খুঁজে পান পরম শান্তি।










