প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অনেক সময় দেখা যায় যখন কেউ অঘোরে ঘুমোয় তখন তাঁর মুখ দিয়ে লালা ঝরে পড়ে (Drooling While Sleeping)। শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা ২ বছর বয়স পর্যন্ত খুবই স্বাভাবিক। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। কিন্তু অনেকেই জানেন না কেন (GK) এই লালা ঝরে, তাহলে চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
কেন লালা ঝরে?
চিকিৎসকদের মতে ঘুমের ঘোরে মুখ থেকে লালা বের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আসলে রাতে আমাদের শরীর যখন বিশ্রাম নেয় তখন স্নায়ুকোশ ঘুমিয়ে পড়ে। তাই আমরা সেই সময় সজ্ঞানে থাকি না। আর আপনা আপনি মুখ খুলে যায়। সেই সময় মুখের ভিতর অতিরিক্ত লালা তৈরি হলে সেটি বেরিয়ে আসে। জানা গিয়েছে, সকালে আমাদের মুখের ভিতর বেশি পরিমাণ লালা থাকে রাতের তুলনায়। অনেকের ধারণা এটি কোনও বড় রোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেশ কিছু কারণে ঘুমোনোর সময় মুখ থেকে লালা পড়তে পারে। সাইনাসের সমস্যা, ঠান্ডা লাগলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও ঘুমের ঘোরে মুখ যখন হাঁ হয়ে থাকে তখন লালা ঝরে।
ডাক্তার দেখানো উচিত
জানা গিয়েছে, অনেকে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এর ফলে মুখ খোলা থাকে সারারাত। যে কারণে লালা বেরিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, অনেকেরই সিজন চেঞ্জের সময় সর্দিকাশি হয়। ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থেকে সর্দিকাশি হলে ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা বেরোতে পারে। আসলে এসব কিছুই হল স্লিপ অ্যাপনিয়া। কেবল লালা ঝরা নয়, ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত নাক ডাকলে, থেকে থেকে ঘুম ভেঙে গেলে বা সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্লান্ত লাগলেও ডাক্তার দেখানো উচিত। তবে এর জন্য অতিরিক্ত চিন্তা করার কোনো দরকার নেই।
আরও পড়ুন: জানেন দীপাবলিতে বাড়িতে কতগুলি প্রদীপ জ্বালানো উচিত?
যদি গলা ব্যথা বা মনোনিউক্লিওসিস, সাইনাস সংক্রমণ, টনসিলাইটিস, পেরিটনসিলার অ্যাবসেস এই সব সমস্যা থাকে সেখান থেকেও মুখ দিয়ে লালা ঝরে। টনসিলাইটিস হলে তা ঘাড় এবং বুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেও হয় সংক্রমণজনিত সমস্যা। সঙ্গে অ্যালার্জি এবং অ্যাসিডিটি তো আছেই। জানা গিয়েছে, বাজারে ম্যান্ডিবুলার ডিভাইস নামে একটি বিশেষ ডিভাইস রয়েছে যা ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা পড়া বন্ধ করে দেয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এটি ব্যবহার করা উচিত।










