🎓 মাধ্যমিক রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
Click Now

মুম্বাইয়ের একই পরিবারের ৪ জনের তরমুজ খেয়ে মৃত্যু! অবশেষে রহস্যভেদ

Published:

Mumbai

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গত ২৬ এপ্রিল মুম্বাইয়ের (Mumbai) পাইধোনিতে একই পরিবারের চারজনের আকস্মিক মৃত্যু গোটা দেশে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল। প্রথম দিকে একে সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়া মনে করা হচ্ছিল। কারণ, দাবি করা হচ্ছিল যে, তরমুজ খেয়ে প্রাণ হারিয়েছে প্রত্যেকে। তবে ১১ দিন দীর্ঘ তদন্ত এবং ৫৪টি ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার পর আসল তথ্য সামনে আসে। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হচ্ছে, পরিবারটির খাওয়া তরমুজের ভেতরে ছিল জিঙ্ক ফসফাইড, যা মূলত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ফরেনসিক রিপোর্টেই চাঞ্চল্যকর তথ্য

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষটি তরমুজের খোসায় বা উপরে ছিল না, বরং তা একদম ভিতরে ছিল। মৃতদের লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নমুনা পরীক্ষা করে ওই বিষের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। আর সবথেকে উল্লেখ করার বিষয়, ওই রাতে তরমুজ ছাড়াও তাঁরা চিকেন পোলাও খেয়েছিলেন। কিন্তু সেই খাবারে কোনওরকম বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে জিঙ্ক ফসফাইড প্রবেশ করলে তা বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস তৈরি করে ফেলে। আর এই গ্যাস সরাসরি ফুসফুসে আঘাত করে এবং শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়। যে কারণে ওই পরিবারের ১২ বছরের শিশুকন্যা সবথেকে আগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ডাক্তারদের মতে, এই গ্যাস একবার রক্তে মিশে গেলে মৃত্যু একেবারে নিশ্চিত।

তবে তরমুজের ভেতরে বিষ এল কোথা থেকে তা নিয়ে এখন উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। জেজে মার্গ থানার পুলিশ বর্তমানে তিনটি দিক খতিয়ে দেখছে। প্রথমত, দোকানদার কি ইঁদুর মারার ওষুধের পাশে ফল রেখেছিলেন? দ্বিতীয়ত, পরিবারের কেউ কি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ওই ফলের ভিতরে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছিল? তৃতীয়ত, ফল চাষের সময় কি কোনও অতিরিক্ত শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছিল? কিন্তু তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ওই মৃত দম্পতির ঘর তল্লাশি করে কোনও ইঁদুর মারার বিষের অস্তিত্ব মেলেনি।

আরও পড়ুন: সরকারি চিঠিপত্র থেকে সরছে বিশ্ব বাংলার ‘ব’! ফিরে যাবে মমতার কাছে

চিকিৎসকদের দাবি, তরমুজ খাওয়ার ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর তারা হাসপাতালে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১ ঘন্টার মধ্যে ওয়াশ করা সম্ভব হলে হয়তো তারা বেঁচে যেত। যেহেতু বিষের পরিমাণ খুব বেশি ছিল না, তাই লক্ষণগুলো দেরিতে প্রকাশ পেয়েছিল। ততক্ষণে তাদের সারা শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়েছিল।