বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতে রমরমিয়ে চলছে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপেলের বাজার (Apple New Investment In India)। আর সে কারণেই দিনের পর দিন এ দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছে সংস্থাটি। তবে এবার iPhone বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নয় বরং একেবারে ভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ঘোষণা করল আমেরিকান সংস্থা। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সংস্থাটির তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতে রিনিউয়েবল এনার্জি, গ্রিন এনার্জি ও প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ খাতে অর্থাৎ স্টার্টআপে 100 কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে অ্যাপেল।
কোন লক্ষ্যে এত বিনিয়োগ অ্যাপেলের?
মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, 100 কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ভারতে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। যদিও এটা প্রাথমিক বিনিয়োগ। আগামী দিনে ধাপে ধাপে এই খাতগুলিতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াবে অ্যাপেল। এ নিয়ে অ্যাপেলের পরিবেশ ও সাপ্লাই চেইন ইনোভেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্যার চ্যান্ডলার জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষাই অ্যাপেলের প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি। সেই সূত্রেই ভারতেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, মার্কিন সংস্থাটি CleanMax এর সাথে হাত মিলিয়ে ভারতে 150 মেগাওয়াটেরও বেশি নতুন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করবে। এর জন্য যে মোটা টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে তার মধ্যে দিয়ে প্রত্যেক বছরে কম করে দেড় লাখ ভারতীয় পরিবারে প্রয়োজনীয় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। কম-বেশি অনেকেই জানেন, এর আগেও CleanMax এর সাথে অংশীদারিত্ব করে ভারতে রিটেল স্টোরগুলির ছাদে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করেছিল অ্যাপেল।
পরিবেশ বাঁচাতে বড় ভাবনা অ্যাপেলের
মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, প্লাস্টিক সংক্রান্ত দূষণ কমাতে এবার তারা WWF-India এর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। বর্তমানে যেখানে এই সংস্থাটি বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ এবং সেগুলির পুনর্ব্যবহারের কাজ করছে, সেই কাজে নতুন করে হাত লাগাবে অ্যাপেল। মার্কিন সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং সেগুলিকে পুনর্ব্যবহারের কাজে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে বর্জ্য সংগ্রহকারী কর্মীদের একসঙ্গে নিয়েই এই কাজ চলবে।
অবশ্যই পড়ুন: এদের জন্য DA নির্দেশিকা জারি নবান্নর
এখানেই শেষ নয়, সংস্থাটি গ্রিন এনার্জি ভিত্তিক স্টার্টআপগুলিকে সাহায্য করার পণ নিয়েছে। সেই সূত্রেই Acumen এর সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে মার্কিন সংস্থা। আসলে অ্যাপেলের প্রধান লক্ষ্য পরিবেশ রক্ষা করা এবং টেকসই অর্থনীতিকে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সংস্থাটি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, 2030 সালের মধ্যে গোটা বিশ্বকে কার্বন নিরপেক্ষ করার জন্য সব রকম পদক্ষেপ নেবে তারা। সব মিলিয়ে বলাই যায়, প্রাথমিকভাবেই অ্যাপলের 100 কোটির বিনিয়োগ ভারতবাসীর কাছে উপহার!










