🎓 মাধ্যমিক রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
Click Now

ব্ল্যাকবোর্ডে রং করার টাকা নেই, জরাজীর্ণ সরকারি স্কুল থেকেই মাধ্যমিকে ষষ্ঠ সোহিনী

Published:

Madhyamik Result 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের ফলাফল (Madhyamik Result 2026)। এবার রেকর্ড পাসের হার। তবে ফল প্রকাশিত হতেই খুশির হওয়া বইল হুগলির (Hooghly) পাড়াম্বুয়া গ্রামে। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে ৬৯২ নম্বর পেয়ে এবার মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে নিল পাড়াম্বুয়া জগদ্ধাত্রী হাইস্কুলের ছাত্রী সোহিনী কোলে। অভাব আর পরিকাঠামগত খামতি যে কখনও সাফল্যের পথে বাধা করে দাঁড়াতে পারে না, তা প্রমাণ করেছে এই ছাত্রী।

সোহিনী জানিয়েছে, কোনও ধরা বাধা রুটিন মেনে কোনও দিন সে পড়াশোনা করেনি। যখনই ভালো লাগত, তখন সে বই নিয়ে বসত, তখনই পড়াশোনা করত। তাঁর কথায়, খুবই ভালো লাগছে। আমি এতটা আশা করিনি। তবে র‍্যাঙ্ক করব সেটা প্রথমে ভাবিনি। কিন্তু ভালো লাগছে। ভালো ফলের আশায় ছিলাম। স্কুল এবং গৃহ শিক্ষকরা আমাকে প্রচুর সমর্থন করেছে।

সরকারি স্কুলেই বাজিমাত

বর্তমান সময়ে সরকারি স্কুলের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অভিভাবকরা। ছেলেমেয়েদেরকে বেসরকারি স্কুলেই ভর্তি করানোর চেষ্টা করছে সবাই। কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সোহিনীর বাবা গৌরাঙ্গবাবু ওই স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক এবং তাঁর মা সম্পা দাস পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষিকা। নিজেদের সন্তানকে তাঁরা গ্রামেরই বাংলা মাধ্যমের সরকারি স্কুলে পড়িয়েছেন। তাঁর বাবার কথায়, আমাদের বাংলা মিডিয়ামের সিলেবাস আর শিক্ষকদের দক্ষতা যথেষ্ট ভালো। তবে ইংরেজি মাধ্যম খারাপ এমনটা বলছি না। কিন্তু বাংলা মাধ্যমে ঠিক মতো পড়াশোনা করলে সাফল্য আসবেই।

তবে সাফল্যের পরেও যেন আক্ষেপ মিটছে না সোহিনীর মা সম্পা দেবীর। তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সরকারি স্কুলে দৈনদশা। তিনি বলেন যে, স্কুলটিতে বসার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে বেঞ্চ নেই। এমনকি ক্লাসরুমে আলোর অভাব রয়েছে। আর স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ড এতটাই পুরনো যে তার রং খসে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে লেখা দেখতে পায় না। এমনকি ব্ল্যাকবোর্ডে কালো রং করার নূন্যতম টাকাও স্কুলের কাছে নেই।

আরও পড়ুন: শনিতেও ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গে! ভিজবে কোন কোন জেলা? আগামীকালের আবহাওয়া

তবে সেই সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও সাফল্য অর্জন করেছে সোহিনী। মাধ্যমিকের এই সাফল্যের পর তাঁর লক্ষ্য এখন স্থির। সে ইতিমধ্যে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা অর্থাৎ নিটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বড় হয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় সোহিনী।