সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train) নিয়ে বিরাট সুখবর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন এই ট্রেনের চাকা গড়াতে পারে। প্রথম ধাপে মুম্বাই-আহমেদাবাদ করিডোরটি আগামী বছরের মধ্যেই চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারতীয় রেল। এমনকি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই জানিয়েছেন, ২০২৭ এর ১৫ আগস্টের মধ্যেই গুজরাটের সুরাট এবং বিলিমোরার মধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার রুটে এই ট্রেনটি চলবে।
বুলেট ট্রেন নিয়ে বিরাট সুখবর
যেমনটা বলা হল, আগামী বছর শুধুমাত্র ৫০ কিলোমিটার রুটে এই ট্রেন চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৯ এর মধ্যেই মুম্বাই এবং আহমেদাবাদ করিডোরের মধ্যে ৫০৮ কিলোমিটার রুটে এই ট্রেন চলবে। তবে জানলে অবাক হবেন, দেশের প্রথম এই বুলেট ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার। এমনকি এই ট্রেন ভারতীয় রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে আমূল বদল আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাপানি হাই-স্পিড রেল প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেই নির্মিত এই অত্যাধুনিক ট্রেনটি মুম্বাই এবং আহমেদাবাদের মধ্যে যাত্রার সময় অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
তবে প্রকল্পের প্রথম ধাপে যে ৫০ কিলোমিটার রুটে এই ট্রেন চালানো হবে, সেই অংশটি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পরীক্ষা এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটিকেই এই পর্যায়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এই অংশটি চালু হলেই দেশের সবথেকে দ্রুতগতির ট্রেন অর্থাৎ বুলেট ট্রেন চলা প্রথম রাজ্য হবে গুজরাট। এমনকি বড় ব্যাপার, এই করিডোরের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে রেল টানেল, যেটি সমুদ্রের নিচ দিয়ে অন্তত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এমনকি দ্রুতগতির রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে এটিই হবে ভারতের প্রথম রেল সুরঙ্গ।
আরও পড়ুন: হবে না TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা? অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে কালীঘাট তৃণমূল
তবে এই প্রকল্পে বেশ কয়েকটি বড় বড় সেতু এবং অন্যান্য আধুনিক স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গোটা করিডোর জুড়ে মোট ১২টি স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রেলের তরফ থেকে। সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রে থাকবে বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স, থানে, ভিরার এবং বৈশার স্টেশন। অন্যদিকে গুজরাটে থাকবে ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভারুচ, ভাদোদোরা, আনন্দ, আহমেদাবাদ এবং সবরমতী স্টেশন। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই স্টেশনগুলিকে প্রধান শিল্প এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গেই যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় রেল। আর এই গোটা প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৯ সালের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ।










