অনন্যা সরকার, কলকাতা: হাতে রয়েছে এক সপ্তাহ, এর মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করলে বন্ধ হবে স্বাভাবিক গ্যাস (LPG) পরিষেবা ! পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে গত মাস কয়েক ধরে সারা ভারতজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সময়মতো গ্যাস পাচ্ছেন বলে এখনও অনেক জায়গা থেকেই অভিযোগ আসছে। এরই মধ্যেই এলপিজি গ্যাসের অবিচ্ছিন্ন পরিষেবা পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি (LPG e-KYC) করা বাধ্যতামূলক করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই ই-কেওয়াইসি করা না থাকলে ভর্তুকি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চড়া দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে গ্রাহকদের। ই-কেওয়াইসি করার ডেডলাইন আগামী ১৫ আগস্ট, এর মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না করলে বন্ধ হবে নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা। তাই আপনার যদি এই প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন না হয়, জেনে নিন কি করবেন।
ই-কেওয়াইসি না করলে বন্ধ ভর্তুকি
কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে গ্রাহকরা তাদের ই-কেওয়াইসি (Electronic-Know Your Customer) সম্পন্ন না করলে আর স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস বুক করে সিলিন্ডার পাবেন না। তখন খোলাবাজার থেকেই সিলিন্ডার কেনা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আর খোলাবাজারে সিলিন্ডারের দাম প্রায় ভর্তুকি যুক্ত গ্যাসের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ। বর্তমানে কলকাতায় ১৪ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮টাকা।
আরও পড়ুন: ১৮ টাকা অবধি বাড়তে পারে ঘরোয়া LPG-র দাম? বড় প্ল্যান করছে সরকার
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে সিলিন্ডার পিছু মেলে আরও ৩০০ টাকা ভর্তুকি। ই-কেওয়াইসি না করানো থাকলে এবার উজ্জ্বলা যোজনার গ্যাসও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে ১৮৭৩ টাকা দিয়ে বানিজ্যিক গ্যাস কিনতে হবে খোলা বাজার থেকে। পেট্রোলিয়াম সংস্থাগুলি গ্যাস ডিলারদেরকে গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি করানোর জন্য বর্তমানে জোর দিচ্ছে। তবে সূত্রের খবর ৯৩-৯৫ শতাংশ গ্রাহকেরই এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে।
ই-কেওয়াইসি করার সহজ উপায়
যদি এখনও কোনো গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি না করা থাকে, তাহলে তারা নিজস্ব এলপিজি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, অর্থাৎ ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপি বা ভারত গ্যাসের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন। পাশাপাশি আধার ফেসআরডি (AadhaarFaceRD) অ্যাপের মাধ্যমেও বাড়ি বসে স্মার্টফোন থেকেই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। অনলাইনে না করতে চাইলে, গ্রাহকরা তাদের নির্দিষ্ট গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়েও আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি স্ক্যানের মাধ্যমে এই পরিচিতি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: বাংলায় ১৭ টি নতুন রেল রুটের কাজ শুরু, কোথায় কোথায়? প্রকাশ্যে এল তালিকা
প্রসঙ্গত, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সূত্রে খবর, সারা দেশে রান্নার গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও একটি বড় অংশ অসাধু উপায়ে গৃহস্থের গ্যাসকেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। এমনকী গৃহস্থালির জন্য বরাদ্দ ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার অনেক সময় হোটেল, রেস্তোরাঁ বা কলকারখানায় পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকরা সময়মতো সিলিন্ডার পাচ্ছেন না এবং কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে। এই কালোবাজারি আটকাতেই নয়া নিয়ম আনা হয়েছে।










