আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে কম বেশি প্রত্যেকেই চুল পড়ার (hairfall) সমস্যা নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকেন। অল্প বয়সে ঝরে যাওয়া চুল দেখে ভয়তে অনেকেই বাজারচলতি নানা ধরনের তেল, শ্যাম্পু ইত্যাদি ব্যবহার করেন। আবার কেউ কেউ ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে মাথার চুল ধরে রাখতে চান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। তবে এমন কিছু ঘরোয়া উপাদান আছে, যেটি ব্যবহার করলে সহজেই স্বাস্থ্যকর চুল পাওয়া সম্ভব। ফিটকিরি (Fitkari) তেমনই একটি উপাদান, যা সাধারণত শেভ করার পর কিংবা জল পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা এবং খুশকির সমস্যা কমানোর জন্যও ফিটকিরি বেশ কার্যকরী। ফিটকিরিতে এমন কিছু গুণ রয়েছে, যা ত্বকও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য পারে।
ফিটকিরির জল কীভাবে ব্যবহার করবেন?
স্ক্যাল্পে ফিটকিরি ব্যবহারের একটি সহজ উপায় হল ফিটকিরির জল। এক কাপ হালকা গরম জলে অল্প পরিমাণ ফিটকিরি বা এক চা চামচ ফিটকিরি গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পু করার পর সেই জল স্ক্যাল্পে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। ৫ থেকে ১০ মিনিট পর পরিষ্কার জল দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। তবে নিয়মিত বা ঘন ঘন এই পদ্ধতি ব্যবহার করা কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। কারণ ফিটকিরির কারণে কারও কারও স্ক্যাল্পে শুষ্কভাব দেখা দিতে পারে।
ফিটকিরি ব্যবহারের আর একটি পদ্ধতি হল নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া। এর জন্য দুই টেবিল চামচ হালকা গরম নারকেল তেলের সঙ্গে এক চা চামচ ফিটকিরি গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে খুব হালকা হাতে মালিশ করতে হবে। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে দেওয়ার পর শ্যাম্পু করে মাথা পরিষ্কার করে নিতে হবে। তবে প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই সতর্ক থাকা জরুরি। ফিটকিরি সরাসরি স্ক্যাল্পে ঘষে লাগানো উচিত নয়। আগে কানের পিছনে বা হাতের সামান্য অংশে লাগিয়ে দেখে নিন কোনও খারাপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা। লালচে ভাব, চুলকানি, জ্বালা বা ফোলা দেখা দিলে ভুল করেও ব্যবহার করবেন না।
আরও পড়ুন: ২২,৮৭৫.৬৬ কোটি টাকার লোকসান, লিটারে ২০ টাকা বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম
ফিটকিরি বেশি ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে বা বারবার ব্যবহার না করাই ভালো। খুশকি, চুলকানি, স্ক্যাল্পে দানা বা চুল পড়ার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর করে বাড়িতে বসে থাকা উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।










