১০ টাকার জন্য বরখাস্ত, ২১ বছরের আইনি লড়াই শেষে রেলের বিরুদ্ধে জয়ী নারায়ণ

Published:

Madhya Pradesh High Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী যাতায়াতের জন্য রেল পরিষেবাকেই (Rail Service) বেছে নেয়। কিন্তু এই রেল পরিষেবা দিতে গিয়ে এমন অসংখ্য কর্মী রয়েছে যাদের বিভিন্ন সময় বিপদের মুখে পড়তে হয়। ঠিক এমন ভাবেই মাত্র ১০ টাকার জন্য চাকরি খুইয়েছিলেন এক রেল কর্মী (Railway Employee)! গত ২১ বছর ধরে মিথ্যে কলঙ্ক নিয়ে দিন কাটিয়েছিলেন নারায়ণ নায়ার। অবশেষে প্রতারণা মামলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (Madhya Pradesh High Court)। জানিয়ে দেওয়া হল তিনি কোনো অপরাধ করেননি।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, ২০০২ সালের ৪ জানুয়ারি, মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলার অন্তর্গত শ্রীধাম রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের ডিউটিতে ছিলেন নারায়ণ নায়ার নামের এক কর্মী। অনেক যাত্রী টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আর সেই সময় ভিড়ের মধ্যে আচমকা হাজির হয়েছিল ভিজিল্যান্স দল। তাঁদেরই মধ্যেই এক যাত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, টিকিটের জন্য ৩১ টাকার বদলে ২১ টাকা ফেরত দিয়েছেন ওই রেল কর্মী অর্থাৎ ১০ টাকার গরমিলের অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁর কাছে ৪৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করে ভিজিল্যান্স দল।

আইনি পথে যায় এই মামলা

ঘটনায় নায়ার নামের ওই রেলকর্মী বারবার জানান, হয়তো ভিড়ের চাপে ১০ টাকার গরমিল থাকতে পারে। এবং ওই ৪৫০ টাকার ব্যাপারে তিনি জানান যে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ, ওষুধ কেনার জন্য ওই টাকা আলাদা করে রাখা ছিল। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে চায়নি কেউই, অবশেষে মাত্র ১০ টাকার কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। বহু বছরের কর্মজীবন মুহূর্তে এইভাবে চলে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি এই ঘটনার জল গড়ায় আইনি পথে। আর সেই নিয়েও মামলা চলে দীর্ঘ বছর। ভিজিল্যান্স দল অভিযোগ করেছিল যে, নারায়ণ নায়ারের কাউন্টারে নাকি মাটিতে অন্তত ৭৭৮টি টিকিট পড়ে থাকতে দেখেছেন কিন্তু নায়ার জানান, সেটি মেঝেতে পড়ে ছিল কিন্তু তিনি সে বিষয়ে কিছু জানতেন না।

রেল কর্তৃপক্ষের আবেদন খারিজ হাইকোর্টের

অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর এবার সেই মামলায় মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্ট এক বড় রায় দিলেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, ১০ টাকার এই গরমিলের অভিযোগে কোনো যথাযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এসেছে শুধুমাত্র ভিজিল্যান্স দলের পক্ষ থেকেই। এই নিয়ে কোনও যাত্রীর অভিযোগও মেলেনি। এমনকি, যে ৭৭৮টি টিকিট সেই সময় মাটিতে পড়ে থাকার কথা বলা হয়েছিল, তা আদতে ছিল মাত্র সাতটি। কাজেই নারায়ণের চাকরি হারানো পুরোপুরি পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণেই। তাই ট্রাইবুনালের রায় বহাল রেখে রেল কর্তৃপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এমনকি এই সামান্য অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা নিয়েও রেলের প্রতি ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করে আদালত।

আরও পড়ুন: ঢুকবে না গরম হাওয়া, বাড়বে নিরাপত্তাও, এবার লোকাল ট্রেনেও অটোমেটিক দরজা

উল্লেখ্য, নারায়ণ নায়ারের জন্য মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায় নিঃসন্দেহে স্বস্তির। তবে ২১ বছর পর পাওয়া এই ন্যায়বিচার তাঁর জীবনের হারানো সময় আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে সেক্ষেত্রে এত বছরের বেতনের টাকা তিনি ফিরে পাবেন কি না, সেব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। তবে রায় প্রসঙ্গে নারায়ণ নায়ার হাসিমুখে জানিয়েছেন যে, দেরিতে হলেও অবশেষে জয় মিলল। এত দিনের অপমান, কালি অবশেষে মুছল।