সহেলি মিত্র, কলকাতা: বড় সিদ্ধান্ত নিল মোদী ক্যাবিনেট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি বুধবার চারটি রেল প্রকল্পের (Railway Project) অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মোট আনুমানিক ব্যয় ৯,৪৫০ কোটি টাকা এবং এগুলি ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
৪টি রেল প্রকল্পের অনুমোদন করল সরকার
প্রথম প্রকল্পটি হলো খড়গপুর-ভদ্রক (রানিটাল) চতুর্থ রেললাইন। এটি পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাকে সংযোগ করবে। দীর্ঘ ১৭৩ কিলোমিটার রেল লাইন বসবে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো ওড়িশার চতুর্থ রেললাইন, যা ভদ্রক থেকে হরিদাসপুর পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার বিস্তৃত। তৃতীয় প্রকল্পটি হলো গুম্মিডিপুন্ডি-গুডুর তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন। এই ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মধ্যে বিস্তৃত হবে। এরপর চতুর্থ প্রকল্পটি হলো ওড়িশার কটক থেকে পারাদ্বীপ (বরাবান্ধা) পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) বলেন, ‘নতুন প্রকল্পগুলি ভারতীয় রেলের পরিচালন দক্ষতা এবং পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা আরও উন্নত করবে। এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পগুলির উদ্দেশ্য হলো কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করা এবং ভিড় কমানো।’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রীর ‘নতুন ভারত’ গড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম পদক্ষেপ। এই কাজ ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষকে ‘আত্মনির্ভর’ করে তুলবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের আটটি জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই চারটি প্রকল্প সম্পন্ন হলে, তা ভারতীয় রেলের বিদ্যমান নেটওয়ার্ককে প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি প্রায় ৬,৪৪৮টি গ্রামের সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে, যেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ বাস করে ।
পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন জোয়ার আসতে পারে
এই রেল প্রকল্পগুলো কুলডিহা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান, মা ভদ্রকালী মন্দির, মা ধামারাই মন্দির, পাঁচলিঙ্গেশ্বর মন্দির, তালাসারি-উদয়পুর এবং চাঁদিপুর সমুদ্র সৈকত, পুলিকাট লেক, নেলাপাট্টু পেরডুম লর্ড, সানপাট্টু পেরডুম, পুলিকাট লেক সহ দেশের বেশ কয়েকটি প্রধান পর্যটন গন্তব্যের সাথে রেল যোগাযোগ উন্নত করবে। এছাড়াও গদা কুজঙ্গা জগন্নাথ মন্দির, সরলা মন্দির, ধবলেশ্বর মন্দির এবং বৌদ্ধ স্থান ললিতগিরিও কভার করবে। এর ফলে পর্যটন শিল্পে নতুন জোয়ার আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটন ছাড়াও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো কয়লা, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, লোহা ও ইস্পাত, কন্টেইনার, মোটরগাড়ি এবং শস্যের মতো পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৭৬ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ দায়ী একটি চেয়ার! ৩৮ মিনিট স্টেশনে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ট্রেন
রেলমন্ত্রী বলেছেন যে, পরিবেশবান্ধব ও শক্তি-সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় রেল দেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ও সরবরাহ খরচ কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও, এটি প্রায় ১৩ কোটি লিটার তেল আমদানি কমাবে এবং প্রায় ৬৫ কোটি কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করবে, যা ২.৬ কোটি গাছ লাগানোর সমতুল্য।










