দায়ী একটি চেয়ার! ৩৮ মিনিট স্টেশনে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ট্রেন

Published:

Train Guard delays Vaishali Express

অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: গার্ড (Train Guard) কামরার চেয়ার ভাঙ্গা, তাই স্টেশনে ৩৮ মিনিট ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখলেন গার্ড। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর থেকে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লি থেকে ললিতগ্রামগামী বৈশালী এক্সপ্রেস (Vaishali Express) ট্রেনটি গোরখপুর স্টেশনে এসে পৌঁছায়। গার্ড কামরায় বসতে না পেরে ক্ষুব্ধ গার্ড রামাশীষ দাস ট্রেনটি এগিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। কর্মকর্তাদের অনুরোধ এবং দেওরিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়ার পর ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের ৩৮ মিনিট দেরিতে যাত্রা শুরু করে।

বসার আসন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গার্ড

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট সকাল ৯:৪৭ মিনিটে নিউ দিল্লি-ললিতগ্রাম বৈশালী এক্সপ্রেস (১৫৫৬৬) ট্রেনটি গোরখপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছায়। এই ট্রেনের গার্ড কারে একটি চেয়ার ভাঙা ছিল। তাই দায়িত্ব নিতে আসা গার্ড রামাশীষ দাস বসার জায়গা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ট্রেনটি ছাড়তে অস্বীকার করেন। এই বিশৃঙ্খলার দরুন ট্রেনটি প্রায় ৩৮ মিনিট স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: কন্যা সন্তান জন্মালেই সরকার দেবে লাখ টাকা! বিশেষ এই প্রকল্পে এল বড় আপডেট

বৈশালী এক্সপ্রেসে লখনউ থেকে গোরখপুর পর্যন্ত যে গার্ডের ডিউটি ছিল তিনি তাঁর টুলবক্সের উপর বসে ভ্রমণ করেছিলেন। অন্যদিকে, গোরখপুর থেকে বারৌনি পর্যন্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত গার্ড একটি ট্রলি ব্যাগ পেয়েছিলেন, তাই তার কাছে টুল বক্সের উপর বসার কোনো বিকল্প ছিল না। স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুরাহা না পেয়ে তিনি স্টেশনেই দাঁড়িয়ে থাকেন, ট্রেনে উঠতে অস্বীকার করেন।

এরপর রেল কর্মকর্তারা রামাশীষ দাসকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে অনুরোধ করা হয় তিনি যেন আর বিলম্ব না করে যাত্রা শুরু করেন।  পরবর্তী ব্যবস্থার আশ্বাস পাওয়ার পর ওই গার্ড স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টকে একটি মেমো পাঠান। মেমোতে তিনি লেখেন যে চেয়ার ছাড়া ট্রেনে উঠবেন না তিনি এবং চেয়ার না থাকার কারণেই ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। তবে শেষমেষ সকলের অনুরোধের পর গার্ড ট্রেনে ওঠেন। পরে দেওরিয়া রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বসার জন্য একটি ছোট টেবিলের ব্যবস্থা করে দেন।

আরও পড়ুন: কলকাতার কাছেই মনোরম সূর্যোদয়, ঘুরে আসেউন ওড়িশার ‘হলিউড মাউন্টেন

এই প্রসঙ্গে প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমিত কুমার জানান যে, বৈশালী এক্সপ্রেস পূর্ব মধ্য রেলওয়ের বা ইসিআর (ECR) ট্রেন এবং এটি শুধুমাত্র গোরখপুরের ওপর দিয়ে যায়। গার্ড কারে একটি ইন-বিল্ট চেয়ার রয়েছে; আলাদা করে টুল দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। দিল্লি থেকে আসার সময় থেকে কেউ কোনো আপত্তি তোলেননি। বর্তমানে লখনউ বিভাগ এখন সোনপুর বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।