পহেলগাঁও ধাঁচে ধর্ম জিজ্ঞাসা করে হামলা, মুম্বাইয়ে দুজনকে কোপাল আমেরিকা ফেরত জুবের

Published:

Mumbai

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাতসকালে মুম্বাইয়ের (Mumbai) মিরা রোড সংলগ্ন নয়ানগর এলাকায় ভয়াবহ হামলা। এক নির্মাণাধীন বহুতলে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে তাঁদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করার পরই কলমা পড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়, এবং তারপরেই তাঁদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক যুবক। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যত গতবছরের পহেলগাঁও হামলার (Pahalgam Attack) সেই দৃশ্য আজ আরও একবার ফুটে উঠল বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার ভোর চারটে নাগাদ ওকহার্ট হাসপাতালের পিছনে এক নির্মাণাধীন বহুতলে ডিউটি করছিলেন রাজকুমার মিশ্র এবং সুব্রত সেন নামে দুই নিরাপত্তারক্ষী। আর সেই সময় হঠাৎ করে জাইব জুবের আনসারী নামে এক যুবক সেখানে পৌঁছে তাঁদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে। এরপর যুবক তাঁদের ইসলামের মূল বাণী বা কলমা পড়তে বলে। তবে তাঁরা ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের উপর ছুরি দিয়ে আঘাত করে ওই অপরাধী। রক্তাক্ত অবস্থায় রাজকুমার নিজে হাসপাতালে পৌঁছতে পারলেও সুব্রত সেন ওই বাড়ির মধ্যেই লুকিয়েছিলেন। পরে নয়াব শেখ নামে এক প্রতিবেশী তাঁকে উদ্ধার করে থানা এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে দুজনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে ঘটনার ৯০ মিনিটের মধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত জাইবকে গ্রেফতার করে ফেলেছে মুম্বাই পুলিশ। আর তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর জন্য একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানা আদালত তাঁকে আগামী ৪ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

তবে হ্যাঁ, এই ঘটনাটি সাধারণ নাকি কোনও জঙ্গি হামলা তা নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য। মহারাষ্ট্র এটিএস বাহিনী এই তদন্তে যোগ দিয়েছে। জাইবের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার নথিপত্র এবং ডায়রিতে গোয়েন্দাদের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। সবথেকে বড় ব্যাপার—তাঁর ডায়েরির পাতায় ‘ISIS’, ‘লোন উলফ’, ‘জিহাদ’ এবং ‘গাজা’ নামক বিভিন্ন শব্দ লেখা ছিল। পুলিশের অনুমান, অনলাইনে উগ্রবপন্থীতে সে দীক্ষিত ছিল।

আরও পড়ুন: রেডি রাখুন ছাতা, বিকেলেই কলকাতা সহ ৬ জেলায় তুমুল বৃষ্টি, কালবৈশাখী! আবহাওয়ার খবর

তদন্ত করে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করত সে। আর তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওখানেই থাকতেন। তবে সেখানে সুবিধা করতে না পেরেই সে ভারতে ফিরে আসে এবং মিরা রোডে একাই থাকত। জীবিকা নির্বাহের জন্য সে অনলাইনে রসায়ন পড়াত। গোয়েন্দাদের অনুমান, একাকীত্ব আর ইন্টারনেটে ছড়ানো উগ্রবাদী ভিডিও তাঁকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। তবে এই ঘটনার তদন্ত চলছে জোরকদমে।