সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বেকারত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীর ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি যোগ্যরাও পর্যন্ত চাকরি হারিয়েছিল। তবে এবার বাংলায় নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার (Government of West Bengal)। ক্ষমতায় এসেই কর্মসংস্থান নিয়ে বিরাট দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মডেলগুলি স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরলেন তিনি। ফলে কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তা দূর হবে বেকার যুবদের।
বেকারত্ব ঘোচাতে মুখ্যমন্ত্রীর বিরাট উদ্যোগ
গতকাল প্রশাসনিক বৈঠকে অন্যান্য সফল রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে সমস্ত রাজ্য আজ বেকারত্ব একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনেছে, তারা নির্দিষ্ট তিনটি পদ্ধতির উপর ভর করেই সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। বাংলাও যদি সেই পদ্ধতি মানতে পারে তাহলে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। সেগুলি হল—
১) স্বচ্ছ সরকারি নিয়োগ- এতদিন যাবত সরকারি নিয়োগে কাটমানি, দুর্নীতি নিত্য ঘটনা ছিল। তবে নতুন সরকার রাজ্যস্তরে সমস্ত শূন্যপদ স্বচ্ছতার সঙ্গে পূরণ করবে বলে জানিয়েছে। এমনকি শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুলিশ বা অন্যান্য খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির দিন শেষ করে শুধুমাত্র যোগ্য এবং মেধাবী প্রার্থীদেরকে সুযোগ দেওয়া হবে। টাকার বিনিময়ে কোনও চাকরি হবে না বলে স্পষ্ট জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
২) ভারী শিল্প আর প্রসেসিং ইউনিট- এবার থেকে ভারী শিল্পী এবং এমএসএমই সেক্টরের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মৎস্য চাষ বা উদ্যান পালনের মতো ক্ষেত্রেও বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রতিটি সেক্টরের ছোট, মাঝারি এবং বড় মাপের আধুনিক প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করা হবে এবং বড়সড় বিনিয়োগ করা হবে। এতে বেকারত্ব অনেকটাই দূর হবে।
৩) ব্যাঙ্কিং খাত এবং ঋণের উপর ভর্তুকি- ছোট, মাঝারি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসাকে আরও সহজ করে তোলার জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে চালু রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, যার আওতায় ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মেলে। এবার তার মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা হচ্ছে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে। জানা গিয়েছে, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পগুলিকে চাঙ্গা করতে এবার সরকার সাবসিডি বা ভর্তুকি দেবে এবং এতে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন: অভিষেকের বাড়িতে লাস্ট লোকেশন, বড় জালিয়াতের খোঁজে চলে তল্লাশি, কে এই সুমিত?
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যদি এই তিন ধরনের নীতি মেনে এগোনো যায় তাহলে কর্মসংস্থানের কোনও অভাব হবে না, এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক ভীত আরও সুনিশ্চিত হবে। যার ফলে রাজ্যের যুবক যুবতীদের আর কাজের ক্ষেত্রে বাইরের রাজ্যে যাওয়ার দরকার পড়বে না। এমনকি এতে রাজ্যের রাজস্ব অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, এই তিন স্তরীয় কাঠামো আদৌ কার্যকর হয় কিনা।










