রেপ থেকে মার্ডার! CJP-র বিক্ষোভে ৯০০-র বেশি দাগি অপরাধী, রিপোর্ট দিল পুলিশ

Published:

CJP Protest

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গোটা দেশে যেন যুদ্ধের আগুন জ্বলছিল (CJP Protest)। ককরোচ জনতা পার্টির চালানো বিক্ষোভ রাজধানী পেরিয়ে অন্যান্য রাজ্যতেও ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে সিজেপির দাবি মেনে নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এমনকি তাঁর জায়গায় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই আন্দোলন কলকাতাতেও রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল। পুলিশ থেকে সাংবাদিক, প্রত্যেকের উপর করা হয় হামলা। আর এবার সেই বিক্ষোভের রিপোর্ট জমা পড়ল সরকারের কাছে।

জেন-জি বিক্ষোভের রিপোর্ট

সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংসদ অভিমুখে চলা ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভে ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০০ জনকে শনাক্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যারা ডাকাতি, যৌন অপরাধ, অস্ত্র আইন সহ মাদক মামলার সঙ্গে জড়িত। হ্যাঁ, বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমেই এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের তথ্য সামনে এসেছে। এমনকি এর মধ্যে ২৪০২ জনকে ক্রাইম ডেটাবেসের মাধ্যমে আর ৪৭১ জনকে পুলিশের ডসিয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে মেলানো হয়েছে। পাশাপাশি এর মধ্যে ৯৮৯ জন বিভিন্ন মামলায় আগে জড়িত ছিল।

রিপোর্ট খতিয়ে দেখা দিয়েছে, এর মধ্যে ১০১ জন ব্যক্তি সরাসরি হত্যার মামলায় অভিযুক্ত, ৬২ জন রয়েছে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত, ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৮৪ জন, ধর্ষণের মামলায় জড়িত ৬১ জন, পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে ৬ জনের বিরুদ্ধে, মেয়েদেরকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে ২৫ জনের বিরুদ্ধে, অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে ২২৯ জনের বিরুদ্ধে, ছিনতাইয়ের অভিযোগে জড়িত রয়েছে ১৩৫ জন, অপহরণের চেষ্টায় জড়িত ১৯ জন, এনডিপিএস মামলায় জড়িত ৬৭ জন এবং অন্যান্য বিশেষ আইনে সনাক্ত করা হয়েছে ১৮৮৪ জনকে। সেক্ষেত্রে মোট অপরাধীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৭৩ জন। এই ২৮৭৩ জনের মধ্যে ৯০০-র বেশি দাগি অপরাধী রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উস্কানি জোগানো থেকে শুরু করে, কুরুচিকর ছবি প্রদর্শন কিংবা অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: এইসব কর্মচারীদের দুর্গাপুজোর উপহার, ভাতা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, ওই রিপোর্টে চিহ্নিত ব্যক্তিদের জেলাভিত্তিক তালিকাও দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে এরকম ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক উত্তর জেলার সঙ্গে যুক্ত। তারপর রয়েছে আউটার জেলা এবং উত্তর-পশ্চিম জেলা। দোষীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে বলেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। এমনকি কেন্দ্রের তরফ থেকে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে, এমনি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।