সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে সরকার গঠন করেই একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এমনকি পুলিশদের জন্য ফ্রি হ্যান্ড ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিয়োগ নিয়েও একাধিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিন ভবানী ভবনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ১ লক্ষ পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে রাজ্যে। এমনকি তার পাশাপাশি ভাতা বাড়ানোর ঘোষণাও করেছেন তিনি।
পুলিশ কর্মীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন ভবানী ভবনে রেন প্রটেকশন গিয়ার কিট বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে টোল ফ্রি নম্বর চালু করা থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মীদের জন্য একাধিক ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিয়োগ নিয়েও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিন তিনি অনুষ্ঠানে গিয়ে জানান, “মুখ্যমন্ত্রী ভবানী ভবনে খালি হাতে আসবেন এটা হতে পারে না। কিছু তো অবশ্যই দিতে হবে। আপনাদের রেশনে ২০১৭ সালে মোট ১৫০০ টাকা ভাতা ছিল। পরে আমি আরও বাড়াবো। কিন্তু আমি আপনাদের দুর্গাপুজোর গিফট দিয়ে গেলাম। অক্টোবর মাস থেকেই এই ভাতা ৫০০ টাকা বেড়ে ২০০০ টাকা হবে।”
তবে ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি এদিন পুলিশে নিয়োগ নিয়েও বড় আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “আমরা যদি পুলিশের সংখ্যা নিয়ে রিভিউ করি তাহলে দেখব দেশে জনসংখ্যায় পুলিশ রয়েছে গড়ে প্রতি লক্ষে মোট ১৫৫ জন। তবে আমাদের রাজ্যে ১০৬ জন। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে প্রতি ১ লক্ষে ২০০ জন করে পুলিশ রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ১ লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই ৪৭,০০০ শূন্যপদ রয়েছে। বিধানসভায় ওবিসি জট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এমনকি আমাদের ১৪ হাজার পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে রয়েছেন যোগদান করার জন্য। দূর্গাপূজার আগেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।”
আরও পড়ুন: দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজির বিরুদ্ধে জানানো যাবে অভিযোগ, হেল্পলাইন নম্বর চালু রাজ্যের
এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এবার রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ চারটি হেল্পলাইন নাম্বার চালু করেছেন। প্রত্যেকটি বিভাগে আলাদা আলাদা হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে। যেখানে দুর্নীতির ঘটনা ঘটবে, সরাসরি সেই হেল্পলাইন নাম্বারের মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে জানানো যাবে। এমনকি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন আধিকারিকরা।










