যাতায়াত হবে আরও দ্রুত, বাংলা ও বিহার পাচ্ছে দুটি নতুন বাইপাস রেল লাইন, দেখুন রুট

Published:

Railway Bypass Line in West Bengal and Bihar

অনন্যা সরকার, কিষাণগঞ্জ: ভারতের রেলমন্ত্রক (Indian Railway Ministry) উত্তর-পূর্ব ভারত, উত্তরবঙ্গ এবং বিহারের মধ্যে রেল যোগাযোগকে শক্তিশালী করার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। রেল মন্ত্রকের জারি করা এই সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ‘বিশেষ রেল প্রকল্প’ হিসাবে দুটি নতুন বাইপাস রেললাইন (Railway Bypass Lines) নির্মাণ করা হবে, যা উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি, বাংলা ও বিহারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। 

বিহার ও বাংলা পাচ্ছে দুটি নতুন বাইপাস রেললাইন

রেল মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, বিহারের সঞ্জয়গ্রাম এবং ধাচানা স্টেশনের মধ্যে একটি নতুন ১.৯৫ কিলোমিটার বাইপাস রেললাইন (Sanjaygram to Dhachna bypass line) নির্মাণ করা হবে। এই নয়া রেললাইনটি বিহারের গুরুত্বপূর্ণ বারসই জংশনকে সম্পূর্ণরূপে বাইপাস করবে। এই বাইপাস লাইনটি কাটিহার, পূর্ণিয়া এবং সীমাঞ্চলের দিকে যাওয়া ট্রেনগুলির গতি বাড়িয়ে দেবে। নতুন ট্র্যাকের ওপর দিয়ে যাওয়ার ফলে ট্রেনগুলিকে আর বারসই জংশনে থামতে হবে না, সেগুলি বাইরের দিকে বা প্ল্যাটফর্মে না আটকে থেকে সরাসরি বেরিয়ে যেতে পারবে। এটি উল্লেখযোগ্যভাবে ট্রাফিক কমাবে এবং যাত্রীদের ভ্রমণের সময়ও অনেকটাই সাশ্রয় হবে। 

আবার, এই বাইপাসটি উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আসা-যাওয়ার মালবাহী ট্রেনগুলির জন্য একটি সরাসরি ও বিকল্প পথ হয়ে উঠবে। লাইন বন্ধ থাকলে বা খুব বেশি যানজট হলে, এই বাইপাসটিই মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনগুলির জন্য লাইফলাইন হিসাবে কাজ করবে। এর ফলে বিহারের ব্যবসায়ীরা কম অর্থ ব্যয় করে ও কম সময়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

আরও পড়ুন: পেট্রোল বা বিদ্যুতে নয়, জলে চলবে বাইক! প্রস্তুত ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন মোটরসাইকেল

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা এবং গুলমার মধ্যে একটি নতুন ১.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস রেললাইন (Bagdogra To Gulma Bypass Rail Line) তৈরি প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনগুলি শিলিগুড়ি জংশন এড়িয়েই চলাচল করতে পারবে, যার মাধ্যমে বিদ্যমান রেল পরিকাঠামো আরও ভালো ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে রেলপথে বাগডোগরা থেকে গুলমা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শিলিগুড়ি জংশনের ওপর দিয়ে যেতে হয়। এই পথটি ৯.২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। নতুন বাইপাস লাইনটি ট্রেন চলাচলের জন্য জংশন থেকে দূরে একটি নতুন কার্যকরী পথ প্রদান করবে। এই দ্বিতীয় বাইপাসারি ফলে কিষাণগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ এবং সীমাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করা ট্রেনগুলিও সরাসরি উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন: ট্রেনে অন্য যাত্রীর সাথে আসন বদল? হবে জরিমানা থেকে কারাদণ্ড, জানুন রেলের নিয়ম

বর্তমান ব্যবস্থায় এই রুটগুলিতে চলাচলকারী কিছু ট্রেনকে শিলিগুড়ি জংশনে ইঞ্জিন পরিবর্তন করতে হয়। বাইপাস রেলপথ তৈরি হলে, ইঞ্জিন পাল্টানোর ঝামেলা আর থাকবে না, যার ফলে অনেক সময় সাশ্রয় হবে। এছাড়াও, এই প্রকল্পটি কেবল যাত্রীদের সুবিধার জন্যই নয়, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিলিগুড়ির কাছেই রয়েছে ‘চিকেন নেক’ (Chicken Neck)-এর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের নিরাপত্তার সংক্রান্ত কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে, এই বিকল্প রেলপথটি সেনাবাহিনী ও রসদ পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।