অনাথ, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের জন্য ১০০ একরের টাউনশিপ তৈরি করছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন, থাকা যাবে আজীবন

Published:

Nita Mukesh Ambani Anant Ashray

অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন নীতা আম্বানি রবিবার তাঁদের একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে, ‘নীতা মুকেশ আম্বানি অনন্ত আশ্রয়’ (Nita Mukesh Ambani Anant Ashray) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। এটি একটি প্রস্তাবিত অন্তর্ভুক্তিমূলক টাউনশিপ, যা অনাথ শিশু, প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আজীবনের আশ্রয়স্থল হবে।

অসহায় মানুষদের জন্য রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের  নতুন উদ্যোগ

রবিবার, ১ নভেম্বর নীতা আম্বানি নিজের জন্মদিনে মুম্বাইয়ের কাছে করজাতে ‘নীতা মুকেশ আম্বানি অনন্ত আশ্রয়’ প্রকল্পের জন্য ভূমি পূজো সম্পন্ন করেন এবং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ১০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই টাউনশিপটিকে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের সাপেক্ষে কয়েকটি পর্যায়ে গড়ে তোলা হবে। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতা আম্বানি বলেন, এই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হল, এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে অনাথ শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণ নাগরিকরা মর্যাদা, যত্ন ও আন্তরিকতা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘নীতা মুকেশ আম্বানি অনন্ত আশ্রয়’ তাঁর ও তাঁর পরিবারের খুব কাছের একটি প্রকল্প। এটি আশ্রয়হীন শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও যত্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যের অভাবে থাকা প্রবীণদের জন্য ভালোবাসাপূর্ণ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার পথে একটি পদক্ষেপ। বর্তমানে তাঁরা এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে সহানুভূতিশীল সেবা ও চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি একটি পারিবারিক পরিবেশের আমেজ থাকবে। এখানে মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে নতুন কিছু শেখার, কাজ করার, বন্ধু তৈরি করার এবং উৎসব উদযাপনের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: ৩০ দিনেই অনুর্বর জমিতে ফলল ‘লাল সোনা’, কামাল করে দেখাল লাদাখ

এই প্রস্তাবিত টাউনশিপটিতে ৫,০০০-এরও বেশি মানুষের আজীবন আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অনাথ শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকরা। তাঁদের দেখভাল করতে পরিচর্যাকারী, চিকিৎসার সাথে যুক্ত ব্যক্তি, সহায়তা কর্মী ও তাঁদের পরিবারসহ এই সোসাইটিতে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের বসবাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই টাউনশিপে থাকবে আবাসিকদের জন্য আলাদা ঘর, হাসপাতাল, একটি মন্দির, বাগান, খেলার মাঠ, খামার ও কর্মশালা। বাসিন্দাদেরকে ছোট, পারিবারিক আদলের বাড়ি দেওয়া হবে এবং তাঁদের দেখাশোনার জন্য থাকবেন নিবেদিতপ্রাণ ‘হাউস প্যারেন্ট’ ও পরিচর্যাকারীরা। প্রতিটি বাসিন্দার জন্য থাকবে একটি স্বতন্ত্র যত্ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা, যা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সাথে পরামর্শ করে তৈরি করা হবে। এই প্ল্যানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সম্পর্ক, দক্ষতা উন্নয়নশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তিগত কল্যাণ।

google button