রসগোল্লা খেয়েই প্যারালাইসড বছর ৩৫-র ব্যক্তি, কেন হল এমন? ব্যাখ্যা দিলেন চিকিৎসক

Published:

Paralyzed For Eating Rasgulla

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রসগোল্লা খেয়েই প্যারালাইসড হয়ে গেলেন হায়দরাবাদের 35 বছর বয়সী এক ব্যক্তি (Paralyzed For Eating Rasgulla)। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই খবর জানিয়েছেন অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডক্টর সুধীর কুমার। ওই চিকিৎসকের বক্তব্য, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার আগে ওই ব্যক্তি 5 থেকে 6টি রসগোল্লা খেয়েছিলেন। কিন্তু মিষ্টি খেয়ে প্যারালাইসিস? এমন ঘটনা বিগত কয়েক দশকে বিরল। কেন হল এমন? কী জানাচ্ছেন ওই চিকিৎসক?

মিষ্টি খেয়েই শয্যাসায়ী ব্যক্তি

চিকিৎসক সুধীর কুমার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন মিষ্টিগুলি টাটকা না হওয়ার কারণে ফুড পয়জনিং হয়ে বছর 35 এর ওই ব্যক্তি প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছেন। তবে পরে জানা যায় প্রত্যেকটি মিষ্টি টাটকা ছিল। তাহলে কেন অসাড় হয়ে গেল ওই ব্যক্তির শরীর? চিকিৎসকের দাবি, ঘটনাটি ফুট পয়জনিংয়ের কারণে হয়নি।

ওই নিউরোলজিস্টের পোস্ট অনুযায়ী, এর আগে তিনবার একই সমস্যায় ভুগেছেন ওই ব্যক্তি। আর প্রত্যেকবারই শর্করা সমৃদ্ধ মিষ্টি খাবার খাওয়ার পরেই এমন ঘটনা ঘটেছে। ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতাকে ওই চিকিৎসক হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। চিকিৎসকের বক্তব্য, এটা সম্ভবত থাইরয়েডজনিত অন্তর্নিহিত কোনও সমস্যা থেকে হয়েছে।

ডক্টর সুধীর কুমার জানাচ্ছেন, উচ্চ শর্করাযুক্ত মিষ্টি খাওয়ার পর হঠাৎ শরীর দুর্বল হয়ে যায় রোগীর। ডাক্তার বাবু জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট শরীরে প্রবেশ করলে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে পটাশিয়াম রক্ত প্রবাহ থেকে কোষের মধ্যে চলে যায়। যা তীব্র হাইপোক্যালেমিয়া ঘটায়। পটাশিয়ামের এমন আকস্মিক হ্রাস পেশির কার্যকারিতা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে প্যারালাইসড হয়ে যান রোগী। 35 বছরের ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক সুধীর কুমার। চিকিৎসকের এও দাবি, হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস অধিকাংশ সময় পুরুষদের ক্ষেত্রেই ঘটে।

 

অবশ্যই পড়ুন: অধ্যাপকদের ভোটের কাজ নিয়ে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

কী করণীয়?

হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলে কী করণীয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, অযথা ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এটি আসলে অত্যন্ত বিরল একটি রোগ। এই ধরনের রোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং পটাশিয়ামের পরিপূরক গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা এবং থাইরয়েডের যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে। একবার প্যারালাইসিস হয়ে গেলে পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে বিরল রোগের চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে। তবে এই রোগের জন্য ভয় পেয়ে মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দিতে বলছেন না চিকিৎসক। বরং পরিমাণে অল্প খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।