ফের বেসরকারিকরণের পথে প্রায় এক ডজন বিমানবন্দর, তালিকায় কলকাতাও? দেখুন

Published:

Privatization Of Indian Airports

অনন্যা সরকার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার আবারও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরকে (Airports) বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে পারে বলে খবর (Privatization)। পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপ (PPP) মডেলের অধীনস্থ ১১টি বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থাগুলোকে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে বারাণসী এবং গয়ার মতো বিমানবন্দরগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাঁচটি বড় বিমানবন্দরের সাথে ছয়টি ছোট বিমানবন্দরকে একত্রিত করে একটি গোষ্ঠী বা বান্ডেল তৈরি করা হবে। প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য একটি একক সংস্থাকে বরাদ্দ করা হবে। এর লক্ষ্য হল একটিমাত্র সংস্থার আধিপত্য রোধ করা। ২০১৯ সালে যখন বিমানবন্দরগুলো বেসরকারীকরণ করা হয়, তখন আদানি গ্রুপ ছয়টি বিমানবন্দরই সর্বোচ্চ দর হেঁকে নিজেদের অধীনে নিয়ে নিয়েছিল।

১১টি বিমানবন্দরের বেসরকারিকরণ

গত ৪ আগস্ট আয়োজিত বৈঠকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অ্যাপ্রেইজাল কমিটি (PPPAC) অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলি পিপিপি মডেলের অধীনে ৫০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হবে। মনে করা হচ্ছে যে, বেসরকারি অপারেটররা এই ১১টি বিমানবন্দরে প্রায় ৮,৬২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।

সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভুবনেশ্বর-হুবলি বান্ডেলে সর্বোচ্চ ২,৭২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হতে পারে। এরপর বারাণসী-গয়া-কুশীনগর প্রজেক্টে ২,৪৬৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে অপারেটররা। রায়পুর-ঔরঙ্গাবাদ প্রকল্পে ১,৪৯৬ কোটি টাকা, তিরুচিরাপল্লি-তিরুপতির জন্য ১,৪১১ কোটি টাকা এবং অমৃতসর-কাংরার জন্য ৫২৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে মনে করা যাচ্ছে। তবে এই তালিকায় এখনও কলকাতা বিমানবন্দরের নাম যোগ হয়নি।

আরও পড়ুন: ২০১১-এ পশ্চিমবঙ্গেই ছিল সবথেকে বেশি ভিক্ষুক, এবারের জনগণনায় বাদ ভিক্ষাবৃত্তির হিসাব

এই বিনিয়োগের মধ্যে কনসেশনারদের ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ব্যয় এবং ক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে অনুমোদিত ক্যাপেক্স অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।

কার্যবিবরণী অনুসারে, এয়ারপোর্টস ইকোনমিক রেগুলেটরি অথরিটির নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী চলাচল এবং ধারণক্ষমতার সীমার সাথে পরবর্তী সম্প্রসারণ সংযুক্ত থাকবে। সরকার একই বিডারকে দেওয়া এয়ারপোর্ট বান্ডেলের সংখ্যা সীমিত করে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য রোধ করারও চেষ্টা করছে। মিনিটসে বলা হয়েছে, একজন একক দরদাতাকে দেওয়া এয়ারপোর্ট বান্ডেলের সংখ্যা সীমিত করা হবে।

আরও পড়ুন: ১৭০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে মানত করলেই চাকরি হয় যুবক-যুবতীদের! রইল ঠিকানা

বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য এবং অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই পদক্ষেপগুলি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সীমা নির্ধারণের পদ্ধতি বর্তমানে তৈরি করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি সরকারের ২০১৯ সালের বিমানবন্দর বেসরকারীকরণ পর্বকে মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে, যেখানে আদানি গ্রুপ প্রস্তাবিত ছয়টি বিমানবন্দরের সবকটিকেই নিলামে জিতে নিয়েছিল।

আরও Airport India Kolkata