সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: স্বাধীনতা পাওয়ার প্রায় ৮ দশক পরেও ভারতের শাসন আর বিচারব্যবস্থায় কেন ইংরেজি ভাষার (English Language) আধিপত্য? এবার এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি গৌতম চৌধুরী। ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ভৌগোলিক এবং সাংবিধানিকভাবে মুক্তি পেলেও এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজও ঔপনিবেশিক ভাষা অর্থাৎ ইংরেজির প্রভাব রয়েছে বলেই দাবি তাঁর। গত ৬ নভেম্বর নিজের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিচারপতি চৌধুরী হিন্দি আর অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন।
মাতৃভাষাকে অবমাননায় ক্ষোভ বিচারপতির
বিচারপতি গৌতম চৌধুরী এদিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি ইংরেজি কিংবা অন্য কোনও ভাষার বিরোধী নন। একটি সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, অন্যান্য ভাষা হল মাসি বা মামীর মতো। আর ইংরেজি হল বিদেশি মাসির মতো। সব ভাষার প্রতি সম্মান থাকা উচিত। কিন্তু যখন নিজের মাতৃভাষাকে হীন চোখে দেখা হয়, তখন তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলেই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। পাশাপাশি তিনি মাতৃভাষাকে নিজের মায়ের সঙ্গেই তুলনা করেছেন এদিন।
উচ্চ আদালতগুলিতে কেন শুধুমাত্র ইংরেজিতেই রায় দিতে হবে—এই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানান বিচারপতি। চৌধুরী বলেন, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব মাতৃভাষা রয়েছে, যা যে কোনও জটিল আইনি তথ্য প্রকাশ করতে সক্ষম। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আদালতগুলিতে বাংলায় এবং গুজরাটের আদালতগুলিতে গুজরাটি ভাষায় রায় দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে হিন্দি ভাষাভাষীর রাজ্যগুলিতে হিন্দির ব্যবহার আরও বাড়ানো উচিত বলেই দাবি তাঁর। জেলা আদালত থেকে পদোন্নতি পেয়ে হাইকোর্টে আসা বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, জেলা আদালতে যাঁরা হিন্দিতে রায় লিখতেন, হাইকোর্ট এসে তাঁরা কেন হঠাৎ ইংরেজি বেছে নেবেন? ইংরেজিতে লেখা রায় যে সবচেয়ে মার্জিত বা পেশাগতভাবে শ্রেষ্ঠ—এই মানসিকতা পুরোপুরি ভুল বলেই ওড়ান তিনি।
“Why are we still subservient to the language of those who ruled over us for 300 years?”
Allahabad High Court judge says India is yet to liberate itself from English language even after 80 years of independence https://t.co/eSDPgzFfLL
— Bar and Bench (@barandbench) November 7, 2026
আরও পড়ুন: দীপাবলির দিন ফের বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
এমনকি বিচারপতি গৌতম চৌধুরী নিজের কর্মজীবনের উদাহরণও টেনে আনেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রায় এবং আদেশ হিন্দি ভাষায় দেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন এই বিচারপতি। সরকারি পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এখনও পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি রায় হিন্দি ভাষায় লিখেছেন বলেই খবর। এছাড়া সংবিধানের ৩৪৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী উচ্চ আদালতগুলিতে ইংরেজি ব্যবহারের কথা বলা হলেও রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে রাজ্যপালরা হিন্দি বা আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ ও অনুমোদন করতে পারেন।










