অনন্যা সরকার, নদিয়া: চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে এইমস কল্যাণী (AIIMS Kalyani)। নিউরোসার্জারি, অ্যানেস্থেসিওলজি এবং ট্রান্সফিউশন মেডিসিন – এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সম্মিলিত ও সুসংহত প্রচেষ্টায় এক যুবকের মাথা থেকে প্রায় ২.৯ কিলোগ্রামের একটি অস্বাভাবিক রকমের বড় ও অত্যন্ত বিরল মস্তিষ্কের টিউমার (Brain Tumour) সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি এখনও পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে নথিভুক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় ‘ম্যালিগন্যান্ট পেরিফেরাল নার্ভ শিথ টিউমার’ (MPNST)।
বিশাল ব্রেন টিউমার সফলভাবে অপসারণ করে যুবকের প্রাণ বাঁচালো এইমস কল্যাণী
বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী এক যুবক বেশ কয়েক মাস ধরেই অসহ্য মাথার যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। মাথার মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা এই টিউমারটির জটিলতার কারণে ভারতের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা যুবককে অবশেষে আশার আলো দেখায় এইমস কল্যাণী।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করে এইমসের চিকিৎসক দল তাদের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেন। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে নিউরোসার্জারি বিভাগ। ডাক্তাররা জানান এই জটিল অস্ত্রোপচারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যদিকে, অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: প্রসবের পর সদ্যোজাতকে জানলা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলল নাবালিকা মা! শোরগোল উত্তরপাড়ায়
এর পাশাপাশি, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ অস্ত্রোপচারের সময় ১৮ ইউনিট ‘প্যাকড রেড ব্লাড সেল’ (PRBC) সরবরাহ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘আল্ট্রা-ম্যাসিভ ট্রান্সফিউশন’। এছাড়াও, অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে আরও ৮ ইউনিট পিআরবিসি এবং রক্তের অন্যান্য উপাদান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
এইমস কল্যাণীর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের পুরো টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এইমস কল্যাণী-র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অরবিন্দ সিনহার দূরদর্শী নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন চিকিৎসক মহল। এই জটিল অস্ত্রোপচারের পর ওই যুবক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে কোনো স্নায়বিক সমস্যা ছাড়াই বাড়ি ফিরে গেছেন, যা বিশ্বের চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভারতীয় চিকিৎসকদের পারদর্শিতা আবারও প্রমাণ করলো।










