অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের মাথায় ঝুলছে সুপার এল নিনো (Super El Niño) খাঁড়া। জলবায়ু সম্পর্কিত সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলি উদ্বেগজনক। যদি আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে আগামী ছয় মাস ভয়াবহ মৃত্যু মিছিলের সাক্ষী থাকতে চলেছে সারা দেশ। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট সম্প্রতি এল নিনোর ওপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়েছে যে, একটি ‘সুপার এল নিনো’র কারণে আগামী ছয় মাস ভারতে তাপমাত্রাজনিত কারণে আনুমানিক ১৫,৮০০ অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু (Heat Deaths) হতে পারে। এই রিপোর্টের সহ-লেখক কোন ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে এই অনুমান করা হচ্ছে, তাও বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন। আসুন দেখে নেওয়া। যাক।
বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪,৫১,০০০টি অতিরিক্ত মৃত্যু
বুধবার প্রকাশিত রিসার্চ রিপোর্ট অনুসারে, একটি সাধারণ বছরের তুলনায় বর্তমান ‘সুপার এল নিনো’-র কারণে আগামী ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪,৫১,০০০ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণার সহ-লেখক এমিলি গ্রোভার-কোপেক জানিয়েছেন, তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্কটি মূল্যায়ন করা হয়েছে ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস (ECMWF SEAS)-এর ঋতুভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবহার করে, যা বর্তমানে অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ঋতুভিত্তিক পূর্বাভাস। গবেষণার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী মাসগুলোতে সারা বিশ্বের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী ২০ বছরে প্রত্যাশিত উষ্ণায়নের মতোই হবে।
এমিলি গ্রোভার-কোপেক জানিয়েছেন, বিভিন্ন উপলব্ধ ঋতুভিত্তিক পূর্বাভাসের দিকে তাকালে, প্রত্যাশিত তাপমাত্রা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইসিএমডব্লিউএফ সিস মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং, এটি একটি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অনুমান প্রদান করে। তিনি এও জানান যে, তাপমাত্রা এবং মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে তারা এমন গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা ‘পিয়ার-রিভিউ’ করা হয়েছে এবং ২০২২ সালের নভেম্বরে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অর্থনীতি সংক্রান্ত জার্নাল ‘কোয়ার্টারলি জার্নাল অফ ইকোনমিক্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: পেঁয়াজ বিক্রি করে মানুষ করেছিলেন বাবা, ভারতের হয়ে রুপো জিতলেন ছেলে সর্বেশ
পিয়ার রিভিউ হল একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যেখানে কোনো লেখকের গবেষণা, বৈজ্ঞানিক কাজ বা ধারণা একই ক্ষেত্রের স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হয়। কোনো গবেষণা প্রকাশিত বা গৃহীত হওয়ার আগে সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত পরিচালিত হয়। এমিলি ব্যাখ্যা করেন যে, আগের একটি গবেষণাতেও জলবায়ু মডেলের ওপর ভিত্তি করে সুদূর ভবিষ্যতের মৃত্যুহার অনুমান করার জন্য একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এবার পদ্ধতিটি স্বল্পমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই কাজ করলেই আলু চাষীরা পাবেন আর্থিক সাহায্য, ঘোষণা সরকারের
ভারতের ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিল (NRDC)-এর হেল্থ অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স টিমের প্রধান অভিয়ন্ত তিওয়ারি বলেছেন, মডেল ভিত্তিক অনুমান হলেও এই গবেষণাটি একটি কার্যকরী আগাম সতর্কবার্তা, যা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে। এর পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর ফ্যাকাল্টি সদস্য হর্ষাল রমেশ সালভে জানান, এই রিপোর্ট অত্যধিক তাপের ফলে হতে চলা ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের একটি সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিটি স্তরে হিট অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা ভীষণভাবে জরুরী।










