পেঁয়াজ বিক্রি করে মানুষ করেছিলেন বাবা, ভারতের হয়ে রুপো জিতলেন ছেলে সর্বেশ

Published:

Asian Games High Jump

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কাটল 56 বছরের খরা। 1970 সালের পর 2026 এ এসে এশিয়ান গেমসের (Asian Games) হাই জাম্পে পদক জিতল ভারত। আর সেই সাফল্যটা এলো ভারতীয় অ্যাথলিট সর্বেশ কুশারের (Sarvesh Kushare) হাত ধরে। এশিয়াডে হাই জাম্প প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে 2.25 মিটার উচ্চতায় লাফিয়ে পুরুষ বিভাগে রুপো জিতেছেন ভারতীয় তারকা। যদিও সোনার পদক জেতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সোনা জয় না হলেও দেশের ঝুলিতে রুপোর পদক রেখে সম্মান বাড়িয়েছেন সর্বেশ। না বললেই নয়, এই ভারতীয় অ্যাথলিটের বাবা মহারাষ্ট্রের নাসিকের একজন পেঁয়াজ চাষী। পেঁয়াজ বিক্রি করে ছেলেকে মানুষ করেছেন তিনি। সেই ছেলেই এবার পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো।

পেঁয়াজ চাষীর ছেলের পদক জয়

গতকাল অর্থাৎ রবিবার জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের পুরুষদের হাই জাম্প ইভেন্টের ফাইনালে অংশ নিয়ে সর্বেশ একে একে 2.10 মিটার, 2.14 মিটার, 2.18 মিটার, 2.22  মিটার এবং 2.25 মিটার উচ্চতা সফলভাবে টপকে যান। তবে শেষ মুহূর্তে 2.28 মিটার উচ্চতায় লাফ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। তাতে সোনা জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত রুপো জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল নাসিকের এই প্লেয়ারকে।

জানিয়ে রাখা প্রয়োজন, এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হাই জাম্পের ফাইনালে যিনি সোনা জিতেছেন, চাইনিজ তাইপের সেই চাও-হুয়ান ফু-ও 2.25 মিটার উঁচুতে লাফিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কাউন্টব্যাক নিয়ম মেনে তাঁর হাতেই সোনার পদক তুলে দেয় এশিয়ান গেমস কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে হাইজাম্পে 2.22 মিটার উঁচুতে লাফিয়ে তিন নম্বরে যাত্রা শেষ করায় ব্রোঞ্জের পদক পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাংহিয়ক উ।

বলাই বাহুল্য, দীর্ঘ 56 বছর পর এশিয়ান গেমসে হাই জাম্প প্রতিযোগিতায় পদক জিতল ভারত। এর আগে 1970 সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে 2.03 মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জের পদক জিতেছিলেন ভীম সিং। পুরুষদের বিভাগে এতদিন সেটাই ছিল ভারতের এশিয়ান গেমসে হাই জাম্পে শেষ পদক। 56 বছরের পদক জয়ের খরা কাটিয়ে দিলেন নাসিকের ছেলে সর্বেশ।

আরও পড়ুন: বৈভবের থেকেও ছোট, এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ইতিহাস ১১ বছরের প্রাইমারী স্কুল ছাত্রীর

যে কথা না বললেই নয়, মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দেবরগাঁওয়ে জন্ম হয়েছিল সর্বেশ কুশারের। অত্যন্ত সাধারণ কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর। বাবা নাসিকের একজন পেঁয়াজ চাষী। জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে তা বিক্রি করতেন বাজারে। সেই থেকে যা রোজগার হতো তাই দিয়েই চলতো সংসার। বলা চলে, পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়েই ছেলেকে মানুষ করেছেন সর্বেশ কুশারের বাবা। পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় ছেলেকে হাই জাম্পের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং পরিকাঠামের ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি। তাই নিজের মতো করে ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বাবা। সেখানেই অনুশীলন করে আজ এশিয়ান গেমসে দেশের জন্য পদক জিতে পরিবারের গর্ব বাড়ালেন সর্বেশ।

google button