সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তির পর বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ধীরে ধীরে আবারও জাহাজ চলতে শুরু করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় বলেই দাবি আন্তর্জাতিক মহলের। শুক্রবার দুটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পার করলেও একটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার (Indian LPG Ship) মাঝপথ থেকে আবারও ফিরে গিয়েছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
নিরাপদে হরমুজ পার করল দুটি ভারতীয় জাহাজ
সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার একটি তথ্য অনুযায়ী, ‘দেশ সুরক্ষা’ এবং ‘এসএসএল কাবেরী’ নামের দুটি ভারতীয় জাহাজ শুক্রবার সকালে ওমানের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার করেছে। বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম কোনও ভারতীয় জাহাজ একেবারে নিরাপদে ইরানের পরিবর্তে ওমানের দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করে হরমুজ পার করল। কারণ, এর আগে অধিকাংশ ভারতীয় জাহাজ ইরানের লারাক চ্যানেল সংলগ্ন করিডোর ব্যবহার করেছিল।
তবে আবার অন্যদিকে ‘বিডব্লিউ লয়্যালিটি’ নামে আরও একটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার হরমুজের দিকে এগোলেও প্রণালীর কাছাকাছি এসে আচমকা দিক পরিবর্তন করে ফিরে যায়। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। যদিও এর একদিন আগেই ওমান উপকূলের কাছে একটি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ওই হামলা এবং এলপিজি ট্যাংকারের ফিরে আসার মধ্যে কোনও রকম সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
তবে দুটি জাহাজ নিরাপদে ফিরে এলেও এখনও পর্যন্ত পারস্য উপসাগরের ভেতরে প্রায় দশটি ভারত সংযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে বলে খবর। যার মধ্যে রয়েছে এলপিজি ট্যাংকার, অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, কন্টেনার জাহাজ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজ। তবে কিছু জাহাজ ধীরে ধীরে উপসাগর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার কিছু কিছু জাহাজ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিজেদের অবস্থানে ফিরছে। এ থেকে স্পষ্ট, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি সতর্কভাবেই পর্যবেক্ষণ করছে তারা।
আরও পড়ুন: বাদ পড়েছেন ‘দিদি নম্বর ১’ থেকে, এক যুগ ধরে সঞ্চালনা করে কত আয় করতেন রচনা?
এদিকে আবার আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা সাময়িকভাবে ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অভিযান স্থগিত করেছে বলে দাবি করছে ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্ট। ওমান উপকূলের কাছে সাম্প্রতিক হামলার পর সংস্থা জানিয়েছে, সমুদ্রপথে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার এবং স্থানান্তর কার্যক্রম আপাতত এগোবে না। এখন দেখার, হরমুজের এই জটিলতা সম্পূর্ণভাবে কবে কাটে।










