অনন্যা সরকার, মধ্যপ্রদেশ: ২০২৮ সালের সিংহস্থ মহাকুম্ভের জন্য উজ্জয়িনীর কাঁঠাল চৌরাস্তা থেকে ছত্রী চক পর্যন্ত রাস্তাটিকে প্রশস্ত করার কাজ চলছে। এই পথেই ছত্রী চকের সতী গেটে ‘খড়ে হনুমান মন্দির’(Khade Hanuman temple)-টি অবস্থিত। লোকমতে, এই মন্দিরটি ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত, অর্থাৎ প্রায় ১৭০ বছরের পুরনো। তবে, রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য পুরসভা এই মন্দিরটি সরানোর পরিকল্পনা করেছে। ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর পুরসভার পাঠানো দল মন্দিরটি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙে। এরপর আসে হনুমানজির মূর্তি সরানোর পালা। প্রশাসন অনেক চেষ্টা করে কিন্তু দণ্ডায়মান হনুমানজিকে একচুলও মাটি থেকে সরানো যায়নি। গত চার দিনে মূর্তিটি সরানোর চারটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। খবর পেয়ে দৌড়ে আসেন ভক্তরা, এটিকে একটি দৈব চিহ্ন ও অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন তারা। প্রশাসনও শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়েছে।
এখন কী অবস্থা উজ্জয়িনীর ‘খড়ে হনুমানজি’-এর?
বর্তমানে সতী গেটের দণ্ডায়মান হনুমানজির মূর্তিটি অক্ষতই রয়েছে। তবে আগেই যেহেতু মন্দিরের কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই মূর্তিটিকে রক্ষা করার জন্য আপাতত একটি ছাউনি দিয়ে রাখা হয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, হনুমানজি স্বয়ং তাঁর স্থান ছাড়তে চান না। ইতিমধ্যেই আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) পক্ষ থেকে এই মূর্তির ইতিহাস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে যে, বিগ্রহটি ১৭০ বছরেরও বেশি পুরনো। এটি পারমার রাজবংশ এবং রাজা ভোজের রাজত্বকালের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদি দাবিটি সত্যি হয়, তাহলে মূর্তিটিকে ১,০০০ বছরের পুরনো বলে গণ্য করা হবে। তবে এর স্বপক্ষে এখনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পণ্ডিত মহেশ বৈরাগীর পরিবার বংশানুক্রমে এই মন্দিরে হনুমানজির সেবা করে আসছেন।
তবে, মন্দির ভাঙা ও হনুমানজির মূর্তি অপসারণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় ভক্ত এবং হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। মন্দির ভাঙার সময় অনেক ভক্তের চোখে জল এসে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু ইট-পাথরের তৈরি একটি কাঠামো নয়, এই মন্দিরটি এলাকার হাজার হাজার মানুষের গভীর বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্র। পুরোহিত ও ধর্মীয় সংগঠনগুলি প্রশাসনকে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে যেন না খেলা করার জন্য সতর্ক করেছে।
আরও পড়ুন: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু, কলকাতার আরও ৯০টি স্কুলে মিড-ডে মিল দেবে ইসকন
এদিকে, মন্দির ভাঙা ও হনুমানজির মূর্তি অপসারণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রচুর স্থানীয় ভক্ত এবং হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। মন্দির ভাঙার সময় অনেক ভক্তের চোখে জল এসে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু ইট-পাথরের তৈরি একটি কাঠামো নয়, এই মন্দিরটি এলাকার হাজার হাজার মানুষের গভীর বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্র। পুরোহিত ও ধর্মীয় সংগঠনগুলি প্রশাসনকে সতর্ক করেছে এই বলে যে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে যেন আঘাত না লাগে।
আরও পড়ুন: বদলে যাবে বাংলার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্র, হাজার কোটির উপর প্রকল্পের অনুমোদন কেন্দ্রের
কেন নড়ানো গেল না হনুমানজির বিগ্রহ?
বিগ্রহ সরানোর সময় হাইড্রোলিক মেশিন বিকল হওয়ার পর প্রশাসন বুঝতে পারে যে হনুমানজি একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দৃঢ়ভাবে প্রোথিত রয়েছেন। তাঁর মূর্তিটি মাটি থেকে মাত্র ৮ ফুট ওপরে উঠে আছে, কিন্তু মূর্তির ভিত্তি কতটা গভীরে, তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই মূর্তিটি একটি বড় পাথর থেকেই খোদাই করা হয়েছিল। সরাসরি মূর্তিটি সেখান থেকে তোলার চেষ্টা করলে, তা ভেঙে যেতে পারে। জানা গেছে, প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি দল ভূমি-পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করবে। এর পরেই তারা বিগ্রহটিকে কিভাবে সরানো যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। এখন অক্ষতভাবে বিগ্রহটি স্থানান্তর করাই পুরসভার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।










