বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর কার্যকর হয়ে গেল চার শ্রম কোড (Labour Law)। নতুন নিয়মবিধি প্রকাশ করে এই চারটি শ্রম কোড পুরো মাত্রায় কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে প্রত্যেক শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ও সমান সামাজিক সুরক্ষা ও অধিকার সুনিশ্চিত হতে চলেছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসেই 2019 এর বেতন সংক্রান্ত কোড থেকে শুরু করে বাকি তিনটি কোডও চালু হয়ে গিয়েছিল।
নতুন শ্রম কোড নিয়ে মুখ খুললেন এক সরকারি আধিকারিক
এর আগে গত বছর অর্থাৎ 2025 সালের 21 নভেম্বর, 2019 এর বেতন সংক্রান্ত কোড, 2020 এর সামাজিক সুরক্ষা কোড, 2020 ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড এবং 2020 এর স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত মোট চার কোড চালু হয়ে গিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, শ্রমকোড গুলির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অবশেষে সম্পূর্ণ হল। সংকটগুলি আইনে পরিণত হয়েছিল আগেই, তবে সঠিক নিয়মবিধি না থাকায় এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বা আধিকারিকের দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ব্যবসা করতে পারে, কর্মসংস্থান তৈরি হয়, এছাড়াও প্রত্যেকটি শ্রমিকের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, সামাজিক ও বেতন সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই কোড গুলি চালু করা হয়েছে। এই লেবার কোড গুলির নিয়মবিধির মধ্যে দিয়েই নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওই চার শ্রম কোড অনুযায়ী, 40 বা তার বেশি বয়সের শ্রমিকরা একেবারে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা যেমন পাবেন, তেমনই সমকাজে সমবেতন, আলাদা শিফটে মহিলাদের কাজের সুবিধা প্রদানের মতো বিষয়গুলিও এই নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: গার্ডরেল, কড়াকড়ি নেই! বাড়তি নিরাপত্তা নিল না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরিবার
সপ্তাহে কাজ করা যাবে 48 ঘন্টা
নতুন আইনি কাঠামোতে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এক সপ্তাহে কাজ করার সময় 48 ঘন্টা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহ শেষে অন্তত একটি ছুটি বা বিশ্রামের দিন ব্যবস্থা করে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর কর্মীদের কাজের চাপ দেওয়া যাবে না। তবে কর্মী যদি স্বইচ্ছায় কাজ করতে চায় সেক্ষেত্রে কাজের সময়ের বাইরে তাঁকে আলাদা করে মজুরি দিতে হবে। একই সাথে, নতুন আইনে কাজ হারানো কর্মী বা শ্রমিকদের নতুন করে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ন্যাশনাল রিস্কিলিং ফান্ড গঠন করার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।










