সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাঁচ দেশের সফর করে ভারতে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তবে তাঁর এই সফর যে শুধুমাত্র কূটনৈতিকভাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা এমনটা নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের আমদানি বা সেমিকন্ডাক্টর, একাধিক খাতে বড় সুখবর নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি আর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা অনেকটাই বাড়িয়েছেন মোদী।
মোদীর বিদেশ সফরেই বাজিমাত
উল্লেখ্য, এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড এবং ইতালি সফর করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই দেশগুলোর সঙ্গেই একের পর এক অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি। সূত্রের খবর, সফরকালে মোট ৫০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোদী, যেগুলির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এমনকি এই সমস্ত কোম্পানিগুলির মধ্যে অনেকগুলির ভারতে উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে তাদের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ আনুমানিক ১৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সূত্রের খবর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারতের সঙ্গে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়াচ্ছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে উৎপাদন পরিকাঠামো, লজিস্টিকস প্রযুক্তি খাতে বেশ কিছু নতুন সুযোগের সন্ধান নিয়ে এসেছেন মোদী। এমনিতেই দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে। তবে এই সফরকালে সেই চিন্তা দূর করিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
আসলে মোদীর এই সফর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই চুক্তিতেই শিলমোহর দিয়েছে আমিরশাহি। সূত্রের খবর, এবার আমিরাতের সাথে ৩ কোটি ব্যারেল ডলার তেলের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এতে সংকট অনেকটাই দূর হবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এমনকি আলোচনায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ থেকে শুরু করে এলএনজি অংশীদারিত্ব, জ্বালানি খাতের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, এমনকি পেট্রোলিয়াম মজুদের মতো একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় রুপি, আজকের রেট কত?
এদিকে জ্বালানির পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর খাতেও অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ইউরোপে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চিপ উৎপাদন, ইকো সিস্টেম থেকে শুরু করে সরবরাহ শৃঙ্খল, উন্নত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়, এবং দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সারাও মিলেছে। আর গোটা সফরে প্রধানমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর, ম্যানুফ্যাকচারিং, ক্লিন এনার্জি মবিলিটিসহ একাধিক প্রযুক্তিগত নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বিরাট ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।










