ডলারের বিপরীতে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় রুপি, আজকের রেট কত?

Published:

Indian Rupee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: টানা অবমূল্যায়নের পর অবশেষে মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। হ্যাঁ, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ডলারের পাল্টা ভারতীয় টাকা ৬১ পয়সা দাম বেড়ে ৯৬.২৫ টাকার স্তরে পৌঁছেছে। যেখানে গতকাল রেকর্ড সর্বনিম্ন ৯৬.৯৫ টাকার গন্ডি ছুঁয়ে ফেলেছিল। যদিও বাজার বন্ধের সময় সেই রেট দাঁড়ায় ৯৬.৮৬ টাকায়। তবে সামগ্রিক এই উত্থান আবারও দেশের অর্থনীতির জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় টাকা

না বললেই নয়, ২০২৬ সালের এই প্রথম পাঁচ মাসে টাকার দাম প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত তলানিতে ঠেকেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে টাকার দামের এই পতন। এমনকি খুব তাড়াতাড়ি তা ১০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলবে এমনটাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ার সবথেকে দ্রুত অবমূল্যায়িত মুদ্রাগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতীয় টাকা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেই আবারও কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে রুপি।

আসলে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা, সম্ভাব্য চুক্তি আর নতুন করে হামলা বর্তমানে সীমান্তরেখায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমছে। এই ঘোষণার পরপরই ভারতীয় মুদ্রা অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ায়। আসলে ভারতকে তার সিংহভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আসে অধিকাংশ। তবে হরমুজ প্রণালিতে চলা অস্থিরতার কারণে তেল আমদানি করতে কেন্দ্র সরকারকে বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হচ্ছে। যে কারণে দিনের পর দিন রেকর্ড পতন হচ্ছিল ভারতীয় টাকার।

এছাড়াও বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ার বাজার ও বন্ড থেকে তাদের বিনিয়োগগুলি তুলে নিচ্ছিল। যার কারণে ডলারের দাম দিনের পর দিন বাড়ছিল, এবং টাকা ঠেকছিল তলানিতে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সব কিছু মিটে যাবে। আর আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন যে, এখন সীমান্ত রেখায় দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর জ্বালানি সংকট থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে বলেই মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা, এবং এই কারণেই কিছু ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় টাকা।

আরও পড়ুন: ৩০ মে’তে নবান্নে মহাবৈঠক, DA নিয়ে জট কাটার ইঙ্গিত! সুখবর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য

কিন্তু হ্যাঁ, যদি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আবারও ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকে, তাহলে যে টাকার দাম আরও পতন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই ১১১ ডলার প্রতি ব্যারেল গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এখন সবটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর। যদি যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয় এবং উত্তেজনা কমে, তাহলে হয়তো ভারতীয় টাকা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে, এবং দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমবে।