বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আজকের দিনে মেয়েরা পারে না এমন কোন কাজ সত্যিই আছে কি? এক কথায়, নেই। সেটাই এবার প্রমাণ করে দেখালেন বর্ধমানের মেয়ে পাপিয়া রায় (Papiya Roy)। প্রচন্ড ঠান্ডা, প্রতিকূল আবহাওয়াকে পাশ কাটিয়ে সাইকেলের প্যাডেলের উপর ভর করেই কলকাতা থেকে সুদূর মাউন্ট এভারেস্টের (Mount Everest) বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন পাপিয়া। জানা যাচ্ছে, শহর কলকাতা থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম শৃঙ্গতে পৌঁছতে পাপিয়ার সময় লেগেছে প্রায় এক মাস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সাধারণ প্যান্ট, শার্ট বা অন্য কোনও পোশাক নয় বরং একেবারে বাঙালি ঐতিহ্যকে সামনে রেখে শাড়ি পরেই মাউন্ট এভারেস্ট ছুঁয়েছেন এই বাঙালি কন্যা।
ভালবাসা থেকেই সাইকেলিং করা পাপিয়ার
পরিবার সূত্রে খবর, একেবারে ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সাইকেলিং করতে বেশ ভালবাসতেন পাপিয়া। জানা গিয়েছে, সুযোগ পেলেই মাঝেমধ্যে সাইকেলিং করতে বেরিয়ে যেতেন তিনি। এভাবেই একটা সময় সাইকেলিং যেন নেশা হয়ে উঠেছিল বর্ধমানের মেয়ের। সেখান থেকে বাহনে চেপে দূর দূরান্তে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল পাপিয়ার বুকে। সেই সূত্র ধরেই, নিজের ইচ্ছেতে শান দিয়ে একেবারে বঙ্গকন্যা সেজে শাড়ি পরে হাজারো প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে সাইকেল নিয়ে মাউন্ট এভারেস্টে পৌঁছলেন তিনি।
বাড়ি বর্ধমানে হলেও, পাপিয়া কর্মসূত্রে কলকাতাতেই থাকেন। সূত্রের খবর, এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকাতেই বসবাস করেন পাপিয়া। সেখান থেকেই সাইকেলে চালিয়ে মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে যান তিনি। ঘটনাটি গত 15 এপ্রিলের। এদিনই কলকাতা বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইকেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন পাপিয়া রায়। এরপর শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে 15 মে সরাসরি মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে গিয়ে সাইকেল স্ট্যান্ড করেন পাপিয়া। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পথ সহ একাধিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পাপিয়ার এই সাফল্য বাংলার মুখ বেশ খানিকটা উজ্জ্বল করেছে সে কথা বলাই যায়।।
অবশ্যই পড়ুন: KKR-র বিরুদ্ধে হারের পর আরেক বিপদে হার্দিক পান্ডিয়া, কড়া পদক্ষেপ BCCI-র
প্রসঙ্গত, কলকাতা থেকে সাইকেল চালিয়ে মাউন্ট এভারেস্টে পৌঁছনো, তাও আবার শাড়ি পরে, ব্যাপারটা যে একেবারেই সহজ ছিল না ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছে কথা জানিয়েছেন পাপিয়া। সেই সাথে তিনি এও জানিয়েছেন, দূর দূরান্তে সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তাঁর নেশা। সেটাই যে একটা সময় তাঁর সাফল্যের কারণ হয়ে দাঁড়াবে ভাবতেই পারেননি। ভবিষ্যতে সাইকেলে চেপে গোটা বিশ্ব ভ্রমণের ইচ্ছে রয়েছে বর্ধমানের মেয়ের।










