ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে BSF-র সাপ, কুমির ছাড়ার বিরোধিতা! কারা করছে আন্দোলন?

Published:

Will BSF deploy snake and crocodile

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে সীমান্তে বিষধর সাপ এবং কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (India-Bangladesh Border)। সম্প্রতি BSF এর এমনই এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছিল। সূত্রের খবর, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তগুলিতে কুমির এবং সাপ ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরই মাঝে সীমান্ত নিয়ে এই বিশেষ পরিকল্পনা কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধতার সম্মুখীন হচ্ছে। অনেককেই কেন্দ্রীয় সরকারের এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, সীমান্ত নিয়ে এমন পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত করাটা বেশ কঠিন হতে চলেছে।

সত্যিই কি সীমান্তে সাপ এবং কুমির ছাড়বে BSF?

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে 4 হাজার 96 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার প্রায় 3 হাজার কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যেই কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম মিলিয়ে বাকি অংশ অত্যন্ত দুর্গম। বিশেষত এর 175 কিলোমিটার এলাকা নদী এবং জলাভূমি হওয়ার কারণে এইসব জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ, বিগত দিনগুলিতে এইসব জায়গা দিয়েই ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ হয়েছে। মূলত সে কারণেই এবার বাকি থেকে যাওয়া দুর্গম এবং জলাভূমি এলাকাগুলিতে সাপ এবং কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা করছে BSF।

গত 26 মার্চ, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সদর দপ্তর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি হয়েছিল এ নিয়ে। সেখানেই খুব স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল, ভারতের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকা গুলিতে অর্থাৎ ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার জলাভূমি ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে সাপ এবং কুমিরের মতো সরীসৃপ মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এমন পরিকল্পনা বিরোধীতার সম্মুখীন হয়।

BSF মনে করছে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন জলাভূমি, পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী সীমান্ত এলাকাগুলিতে যেখানে বেড়া দেওয়া অসম্ভব, সেইসব জায়গায় কুমির এবং সাপ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে এই প্রাণীগুলি। বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই বলছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত যেসব অঞ্চলে সীমান্ত ভাগ করে সেই সব ক্ষেত্রে সাপ এবং কুমির ছাড়া সম্ভব হবে কিনা তাও যথেষ্ট সংশয়ের বিষয়।

অবশ্যই পড়ুন: ১ লিটার ইথানল তৈরিতে লাগছে ১০,০০০ লিটার জল! দেশে হবে ব্যাপক জল সংকট?

রিপোর্ট বলছে, ভারতেরই কিছু আন্দোলন কর্মী এই ধরনের পরিকল্পনার সমালোচনা করছেন। এ প্রসঙ্গে গবেষক অংশুমান চৌধুরী বলেছেন, এটি প্রকৃতি এবং প্রাণীদের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্রে পরিণত করতে পারে। কেউ কেউ আবার এই বিষয়টিকে সরকারের নির্মম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আবার বলছেন, এভাবেই সীমান্তে কুমির এবং সাপের মতো মারাত্মক সরীসৃপ ছেড়ে অযথা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। সমালোচকদের দাবি, বাঙালি মুসলমানদের লক্ষ্য করেই এই কাজ করা হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরাও এমন পরিকল্পনাকে বায়োপলিটিক্যাল ভায়োলেন্স আখ্যা দিচ্ছেন।

google button