প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল, স্বাধীনতার পরে এই প্রথম গ্রামে তৈরি হল পাকা রাস্তা! আনন্দে আপ্লুত পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের মানকিয়ারি পঞ্চায়েতের গুঁদলিগোড়া (Gundligora Village) গ্রামের মানুষজন। দীর্ঘদিন ধরে জল-কাদা পেরিয়ে যাতায়াত করতেন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা ও ছাত্রছাত্রীরা। বর্ষাকালে রাস্তা একেবারে হাঁটু-জলপথে ভর্তি হতে যেত। খুবই সমস্যায় পড়তে হত সকলকে, অবশেষে এবার পাকা রাস্তা (Concrete Road) মেলায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল গ্রামবাসীরা।
স্বাধীনতার পর প্রথম পাকা রাস্তা পেল এই গ্রাম
দীর্ঘ বছর ধরে আড়শা ব্লকের মানকিয়ারি পঞ্চায়েতের স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়েছিল যে এখানেও যেন পাকা রাস্তা বানানো হয়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। সকলেই পাকা রাস্তা বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পূরণ করেনি কেউ। এদিকে গ্রামের রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে কারোর শরীর অসুস্থ হয়ে পড়লেও এই রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকার জো নেই, বাধ্য হয়েই সকলের সহযোগিতায় যেতে হয় হাসপাতালে। আসলে মূল রাস্তায় পৌঁছতে গ্রামবাসীর ভরসা ছিল এক কিলোমিটার জমির আলপথ। তবে এবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পাকা রাস্তা পেলেন আড়শা ব্লকের মানকিয়ারি পঞ্চায়েতের গুঁদলিগোড়া গ্রামের মানুষজন।
জমির অভাবেই আটকে ছিল কাজ
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এত দিন জমির অভাবে নাকি রাস্তার কাজ হয়নি। শেষে রাস্তা তৈরির জন্য গ্রামের বহু মানুষ স্বেচ্ছায় জমি দান করে সেই সমস্যা মিটেছে। আর তারপরে রাজ্য সরকারের ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পে বরাদ্দ মেলে। এখন সেই প্রকল্পের অর্থেই গ্রামের কাঁচা রাস্তা ঢালাই করে পাকা করা হয়েছে। আনন্দে আত্মহারা গ্রামের শিশুরা। ওই গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল মাঝি জানায়, “স্বাধীনতার পরে এই প্রথম আমাদের গ্রামে রাস্তা হল। বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হয়েছে।”
আরও পড়ুন: তাপপ্রবাহ কাটিয়ে দক্ষিণবঙ্গে এখন ঠান্ডা, কতদিন চলবে বৃষ্টি? জানাল আবহাওয়া দফতর
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী পায়েল মাহালি জানিয়েছে, এ বার সাইকেল করে সহজেই স্কুলে যেতে পারবে। ধনঞ্জয় মাহালি নামে আরেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, “রাস্তা না থাকায় এতদিন আত্মীয়-স্বজনও গ্রামে আসতে চাইতেন না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেও সমস্যায় পড়তে হত। তবে এবার রাস্তার কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরে পেরেছে সকলে।” এ প্রসঙ্গে আড়শা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বরূপ মাঝি জানান, ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় গ্রামবাসীদের মুখে হাসি ফুটেছে।










