বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের (Bangladesh) সাথে খারাপ হয়েছে ভারতের সম্পর্ক (India-Bangladesh Relations)। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ওপারের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে নয়া দিল্লির। পদ্মা পাড়ের দেশের সিংহাসনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বসলেও সেই আগের অবস্থায় ফেরেনি দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক। এমতাবস্থায়, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে মুখ খুলল আমেরিকা। গত বুধবার, নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে অন ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানালেন, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে শত্রুতার একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসিনা!
শেখ হাসিনার জন্যই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে শত্রুতা?
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে মরিয়া বাংলাদেশ। এদিকে ভারত থেকে একেবারে গলা উঁচিয়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফিরে যাবেন। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনা বেড়েছে ওপার বাংলায়। এবার হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শোনা গেল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে।
এদিন, নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে আমেরিকার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও। সেখানেই ওপারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তাকে। উত্তরে তিনি একেবারে খোলাখুলি জানান, “শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমেরিকা এখনও পর্যন্ত কোনও অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি যে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে শত্রুতার একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। আমি আশা করি এই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সবটা মিটিয়ে নেবে।”
আরও পড়ুন: অক্টোবরে ছুটির ছড়াছড়ি, কবে কবে বন্ধ থাকবে স্কুল? দেখে নিন তালিকা
এদিন ওই মার্কিন প্রতিনিধি এও বলেন, “ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলেও হাসিনার কী হওয়া উচিত তা নিয়ে মতামত দিচ্ছে না আমেরিকা। তবে আমরা ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে আবারও সুসম্পর্ক দেখতে চাই।” এদিন ওই মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের শাসক দলকে নিয়ে মন্তব্য করেন। বলেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। তবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির সাথে আমাদের সম্পর্ক ভাল। আমরা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করে যেতে চাই।” এক কথায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ঘুরিয়ে এশিয়ার দুই প্রতিবেশী ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে খারাপ সম্পর্কের জন্য কার্যত হাসিনাকেই দায়ী করছে!










