বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাত বড্ড বিপাকে ফেলেছে পাকিস্তানকে (Pakistan Oil Crisis)। তাই তো নিজে জেচে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল ইসলামাবাদ। তবে সেই শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় পাকিস্তানের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে জ্বালানি নিয়ে একপ্রকার হাহাকার দেখা দিয়েছে পাকিস্তানে। সে দেশের তেলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন খোদ পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পরভেজ় মালিক। যে ভারতকে সারাদিন গালমন্দ করেন তাঁরা, বাস্তবের মাটিতে পা রেখে এবার সেই ভারতকে এগিয়ে রেখেই দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন পাক মন্ত্রী।
ভারতের প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পাক মন্ত্রী
পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভির এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানির মজুদ নিয়ে পাকিস্তানের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন তিনি। এদিন পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার নয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোটা বিশ্বের তেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
এদিন পাকিস্তানের মজুদ থাকা অবশিষ্ট তেল প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আলি পারভেজ মালিক বলেন, “এই মুহূর্তে পাকিস্তানে যেটুকু অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে তাতে আগামী 5 থেকে 7 দিন চলতে পারে। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল যা আছে তাতে গোটা একদিন চালানো যাবে না। গোটা বিষয়টি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’
দেশের মানুষের স্বার্থে পাকিস্তানে অতিরিক্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুদ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য জ্বালানির উপযুক্ত বন্দোবস্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিয়ে ব্যাপক অস্থিরতা রয়েছে ঠিকই। তবে ইসলামাবাদকে তার জ্বালানি নিয়ে বাড়তি চিন্তা ভাবনা করতে হবে। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, এদিন নিজেদের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ভারতের প্রসঙ্গ টানেন পাক পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। পারভেজ বলেন, “আমাদের কাছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত নেই। আমরা বাণিজ্যিক মজুরের উপরেও নির্ভর করি না। আমরা তো ভারতের মতো নই যে এক ইশারাতেই 60-70 দিনের তেলের মজুদ হয়ে যাবে।” সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের বাণিজ্যিক জ্বালানি মজুদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এও জানান, “বাণিজ্যিক কেন দেশে এই মুহূর্তে অতিরিক্ত কোনও জ্বালানিই মজুদ নেই।”
অবশ্যই পড়ুন: গাড়ি থেকে শুরু করে সোনার গহনা, প্যান কার্ড না থাকলে আর কেনা যাবে না এসব জিনিস!
প্রসঙ্গত, আর পাঁচটা দেশের তুলনায় জ্বালানির দিক থেকে পাকিস্তানের দুরবস্থার কথা প্রকাশ করার পাশাপাশি পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী সকলকে আশ্বস্ত করেন, “কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছে। সরকার সব রকম চেষ্টা করছে যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। যাতে ভর্তুকীর ব্যবস্থা করা যায়। তেলের মজুদ কীভাবে বাড়ানো যায় সে সবটা নিয়েই সরকার পরিকল্পনায় ব্যস্ত।”










