অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমানে সারা দুনিয়ায় বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়ির মধ্যে তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রনে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে এয়ার কন্ডিশনারের (AC) চাহিদা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তবে এসি মেশনগুলি ঘরকে ঠান্ডা করলেও, বিদ্যুতের খরচ ব্যাপকমাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। ফলে তার সাথেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে জ্বালানির খরচ ও গ্রিনহাউস গ্যাসের (Green House) নির্গমন। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার করেছেন, যা এয়ার কন্ডিশনিং ছাড়াই ঘরকে ঠান্ডা রাখতে ও অতিরিক্ত গরম কমাতে সাহায্য করবে। এটি কোনো যন্ত্র নয়, স্রেফ পৃথিবীর সবচেয়ে উজ্বল সাদা রং (World’s Whitest Paint)। কীভাবে তাপমাত্রা কমাবে এই শ্বেতশুভ্র রং, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বিশ্বের সবচেয়ে সাদা রং কমাবে বাড়ির উষ্ণতা
পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Purdue University) একদল ইঞ্জিনিয়ার এই যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁরা এযাবৎকালের সবচেয়ে সাদা রঙ তৈরি করেছেন, যা সরাসরি সূর্যালোক প্রতিফলিত করে রঙ লাগানো পৃষ্ঠকে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখে। এটা আমরা প্রায় সকলেই জানি যে, সাদা হল এমন একটি রঙ, যা সবচেয়ে কম তাপ শোষণ করে। তাই, গবেষকরা এই নতুন রঙের আবরণটিকে এমনভাবে ডিজাইন করেছেন, যা ছাদ ও দেয়াল দ্বারা শোষিত না হয়ে সূর্যের প্রায় সমস্ত তাপই প্রতিফলিত করে দেবে। পরীক্ষাগারের পরীক্ষা করে গবেষকরা জানান, এই সাদা রঙটি প্রায় ৯৮.১% সূর্যালোক প্রতিফলিত করতে পেরেছে, যা অন্য যেকোনো সাদা এক্সটিরিওর পেইন্ট এবং আগের ব্যবহার করা বিকল্পগুলিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে হবে জমির অদল-বদল? সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন প্রস্তাবনা কেন্দ্রের
এসিপি অ্যাপ্লায়েড মেটিরিয়ালস অ্যান্ড ইন্টারফেসেস নামক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে, প্রকৌশলীদের দলটি এই সাদা রঙটিকে এখন পর্যন্ত সেরা কার্যক্ষম একক-স্তরীয় বিকিরণ শীতলকারী আবরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রিসার্চাররা প্রকৃতিতে উপলব্ধ বিভিন্ন সাদা পদার্থের তুলনা করার পর রঙ তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে বেরিয়াম সালফেটকে (Barium Sulphate) বেছে নিয়েছেন। এই যৌগটি প্রসাধনী দ্রব্য এবং ফটোগ্রাফিক কাগজের মতো দৈনন্দিন জিনিসের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর কাজ করে।
শুধু উপাদান নয়, রঙের কণাগুলোর আকারের ওপরও গবেষকরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। একই আকারের কণা ব্যবহার করার বদলে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন আকারের কণাকে একসাথে মেশান। প্রতিটি কণা সূর্যালোকের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রতি আলাদাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই বিভিন্ন আকারের কণা থাকার ফলে রঙ করা পৃষ্ঠ দ্বারা শোষিত হওয়ার পরিবর্তে সূর্যালোকের একটি বড় অংশ প্রতিফলিত হয়ে যায়। নতুন ফর্মুলায় তৈরি এই সাদা রঙ পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এতটাই কমাতে পারে, যা প্রচলিত ওয়াল কালার বা এক্সটেরিয়ার পেইন্টগুলির পক্ষে দুঃসাধ্য।
আরও পড়ুন: চিনের একাধিপত্যে ধস নামাবে পুরুলিয়ার খনি! বিরল খনিজ খননে বড় পদক্ষেপ সরকারের
উল্লেখযোগ্যভাবে, একটি উজ্জ্বল রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই সাদা রঙের আবরণ দেওয়া পৃষ্ঠটির তাপমাত্রা চারপাশের বায়ুর তাপমাত্রার চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকছে। সূর্যাস্তের পর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা চারপাশের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। শীতকালেও এই রঙের একইরকম প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।










