আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বর্ষার মরশুমে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, সিঁড়ি কিংবা উঠোনে শ্যাওলা (Moss) জমে পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে অনেকেই হাঁটা চলার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন। শ্যাওলা জমে থাকা অংশে অসাবধানতাবশত পা পড়ে পিছলে গেলেই ভয়ংকর বিপদ ঘটে যেতে পারে। অন্যদিকে, দেওয়াল ও ফুলের টবের গায়ে সবুজ আস্তরণ পড়লে দেখতে নোংরা লাগে, বাড়ির পরিচ্ছন্নতাও নষ্ট হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি ক্লিনিং প্রোডাক্ট কেনার কোনও প্রয়োজন নেই। সাদা চুনেই উঠে যাবে সমস্ত শ্যাওলা। কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
মাত্র ৫ টাকার চুনেই পরিষ্কার হবে শ্যাওলা
অনেকেই জানেন চুন হলো একটি ক্ষারধর্মী পদার্থ। এটি শ্যাওলার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু চুন ছড়িয়ে দিলেই যে সব ধরনের শ্যাওলা সম্পূর্ণ উঠে যাবে বা দীর্ঘদিন আর ফিরে আসবে না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কংক্রিটের মতো শক্ত পৃষ্ঠে জমে থাকা শ্যাওলা সরাতে অনেক সময় ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করাও প্রয়োজন হয়।
কীভাবে পরিষ্কার করবেন বাড়ির ছাদ-উঠোন?
- প্রথমেই জায়গাটিতে জমে থাকা শুকনো পাতা, ধুলো ও অন্যান্য ময়লা সরিয়ে নিন। এরপর শক্ত ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ঘষে শ্যাওলার পুরু স্তর তুলে ফেলুন। খুব পিচ্ছিল জায়গায় দাঁড়াবেন না, নিরাপদ দূরত্বে থেকে কাজ করার চেষ্টা করুন।
- চুন ব্যবহার করার আগে প্রথমে প্যাকেটের নির্দেশিকা পড়ুন এবং পৃষ্ঠটির জন্য সেটি উপযুক্ত কি না নিশ্চিত করুন। হাতে গ্লাভস ও চোখে সুরক্ষাচশমা ব্যবহার করুন। চুনের গুঁড়ো যাতে বাতাসে উড়ে নাক-মুখে না ঢোকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে নাক মুখ চাপা দেওয়ার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন। শিশু ও পোষ্যদের ওই জায়গা থেকে দূরে রাখুন।
- এরপর উপযুক্ত পদ্ধতিতে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে চুন ও শ্যাওলার অবশিষ্টাংশ সরিয়ে ফেলুন। তবে দেওয়ালের রং করা অংশ, মার্বেল, প্রাকৃতিক পাথর কিংবা গাছের টবের মাটিতে সরাসরি চুন প্রয়োগ করার আগে সতর্ক থাকুন।
চুন ছাড়াও রয়েছে আরও কয়েকটি সহজ উপায়
শ্যাওলা পরিষ্কারের জন্য সব সময় রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োজন হয় না। শ্যাওলা কতটা পুরু এবং কোন ধরনের পৃষ্ঠে জমেছে, তার উপর নির্ভর করে কয়েকটি বিকল্প উপায় বেছে নেওয়া যায়।
১. শক্ত ব্রাশ ও জল:
হালকা শ্যাওলার ক্ষেত্রে প্রথমে সাধারণ জল এবং শক্ত ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। এটি তুলনামূলক সহজ পদ্ধতি। পরিষ্কারের সময় জমে থাকা শ্যাওলা পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে হবে।
২. বেকিং সোডা:
কংক্রিটের মতো কিছু শক্ত পৃষ্ঠে বেকিং সোডা দিলে শ্যাওলা তাড়াতাড়ি মাটি থেকে উঠে আসে। তবে সব পৃষ্ঠে এর ফল এক রকম হয় না। ব্যবহার করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করুন এবং কাজ শেষে অবশিষ্টাংশ ধুয়ে ফেলুন।
৩. উপযুক্ত ক্লিনার:
খুব বেশি জমে গেলে নির্দিষ্ট পৃষ্ঠের জন্য তৈরি ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পণ্যের নির্দেশিকা মেনে চলুন, গ্লাভস ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করুন এবং গাছপালা ও আশপাশের পরিবেশকে রক্ষা করুন।
একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার, চুন, ভিনিগার, ব্লিচ বা অন্য কোনও পরিষ্কার করার রাসায়নিক একসঙ্গে মেশানো উচিত নয়। বিশেষ করে ব্লিচের সঙ্গে অ্যাসিডজাতীয় ক্লিনার মিশলে বিপজ্জনক গ্যাস তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: দেওয়ালে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দূর করতে ওয়াটার প্রুফিং করেও যাচ্ছে না সমস্যা? জানুন কারণ
বারবার যাতে শ্যাওলা না জমে, তার জন্য কী করবেন?
একবার পরিষ্কার করলেই কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে না। যে জায়গায় দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা জমে থাকে, সেখানে আবার শ্যাওলা জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। তাই কয়েকটি অভ্যাস বদলালে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
- জল জমতে দেবেন না: ছাদ, বারান্দা ও উঠোনে জল বেরোনোর পথ পরিষ্কার রাখুন। নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত তা ঠিক করুন।
- সূর্যের আলো ও বাতাস চলাচল বাড়ান: যেখানে সম্ভব, অতিরিক্ত ছায়া কমিয়ে জায়গাটি শুকনো রাখার ব্যবস্থা করুন।
- নিয়মিত ঝাঁট দিন: শুকনো পাতা, ধুলো ও অন্যান্য জৈব ময়লা জমতে দেবেন না।
- ফুলের টবের আশপাশ পরিষ্কার রাখুন: টবের নীচে জল জমছে কি না এবং অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না দেখুন।
- পিচ্ছিল জায়গায় সতর্ক থাকুন: শ্যাওলা পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত শিশু, বয়স্ক মানুষ ও অন্যদের ওই জায়গায় সাবধানে চলাচল করতে বলুন।










