অনন্যা সরকার, কলকাতা: বাথরুমে যদি সাদা টাইলস (Bathroom Tile) থাকে তাহলে অধিকাংশ সময়ই দেখবেন টাইলসের সংযোগস্থলে গ্রাউট লাইনগুলো আর আগের মতো সাদা থাকে না। প্রতিদিন মোছা সত্ত্বেও, সাবানের ফেনা, ধুলো, ময়লা এবং ছত্রাকের আস্তরণ সহজে দূর হয় না। এর কারণ হলো গ্রাউটের উপরিভাগ অমসৃণ ও ছিদ্রযুক্ত হয়, যার ফলে এগুলি শোষণ করতে সক্ষম। আপনিও যদি আপনার বাড়ির টাইলসের মাঝের নোংরা হয়ে যাওয়া লাইনগুলো নিয়ে চিন্তায় থাকেন এবং সেগুলোর উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে চান, তবে ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত দামী দামী ক্লিনারের কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরের কিছু সাধারণ এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই গ্রাউটের উজ্জ্বলতা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আসুন তাহলে বাথরুমের গ্রাউটকে নতুনের মতো ঝকঝকে করে তোলার জন্য ৫টি সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায় (Cleaning Tips) জেনে নেওয়া যাক।
১.বেকিং সোডা ও জলের মিশ্রণ
যদি গ্রাউটে দৈনন্দিনের ময়লা জমে থাকে এবং দাগগুলো খুব বেশি পুরোনো না হয়, তাহলে বেকিং সোডা ও জলের মিশ্রণই কামাল দেখাতে পারে। সামান্য জলের সাথে বেশ খানিকটা বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। হাতের কাছে পুরোনো টুথব্রাশ থাকলে ভালো, নাহলে যেকোনো ছোট ব্রাশ ব্যবহার করে এই পেস্টটিকে গ্রাউটের খাঁজে খাঁজে লাগাতে হবে। তারপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট এভাবেই রাখতে হবে, যাতে বেকিং সোডা ময়লার আস্তরণকে আলগা করে দিতে পারে। তারপর, ব্রাশটি দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আলতো করে ঘষতে হবে এবং পরিষ্কার জল দিয়ে ধুতে হবে। এই পদ্ধতিটি রোজকার পরিষ্কারের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত এবং এতে গ্রাউটের কোনো ক্ষতি হয় না।
২. বেকিং সোডা ও হোয়াইট ভিনেগার
হালকা ময়লা এবং কালচে হয়ে যাওয়া টাইলসের গ্রাউট লাইন পরিষ্কার করার জন্য বেকিং সোডা ও হোয়াইট ভিনেগার যথেষ্ট কার্যকরী হতে পারে। প্রথমে, গ্রাউটের খাঁজে খাঁজে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিতে হবে। তারপর, গ্রাউটের ওপর সাদা ভিনেগার স্প্রে করতে পারেন কিংবা সরাসরি ঢেলেও দেওয়া যায়। ভিনেগার ও বেকিং সোডা একসাথে মিশে যে ফেনা তৈরি হয়, তা গ্রাউটের উপরিভাগে লেগে থাকা ময়লা ছাড়াতে সাহায্য করে। এইভাবে কয়েক মিনিট এটাকে রেখে দিতে হবে, তারপর একটি শক্ত ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেই ব্যাস। টাইলসের লাইনে আর ময়লা পাবেন না।
আরও পড়ুন: শপিংয়ের বেঁচে যাওয়া টাকায় লটারি টিকিট কেটে কোটিপতি, থানায় দিনহাটার গৃহবধূ
৩. লেবুর রস এবং বেকিং সোডা
যদি আপনার গ্রাউটে হার্ড ওয়াটার বা খর জলের কারণে দাগ পড়ে বা খনিজ পদার্থ জমে থাকে, তবে লেবুর রস ও বেকিং সোডা একটি ভালো উপায় হতে পারে। লেবুর স্বাভাবিক অ্যাসিডিটি এবং বেকিং সোডার মৃদু স্ক্রাবিংয়ের ক্ষমতা একত্রিত হলে আরও ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়। এরজন্য টাটকা লেবুর রসের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে এটিকে গ্রাউটের খাঁজে লাগিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। তারপর একটি ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি শুধু গ্রাউট পরিষ্কারই করবে না, বাথরুমের দুর্গন্ধও দূর করতে সাহায্য করবে।
৪. বেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইড
অনেকদিন ধরে থাকার ফলে গ্রাউট যদি হলুদ, বাদামী বা কালচে হয়ে যায়, তবে বেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মিশ্রণ খুব ভালো বিকল্প হতে পারে। হাইড্রোজেন পারক্সাইড একটি মৃদু প্রাকৃতিক ব্লিচের মতো কাজ করে, কিন্তু এতে ক্লোরিন ব্লিচের মতো তীব্র গন্ধ নেই। গ্রাউট পরিষ্কারের জন্য ২ ভাগ বেকিং সোডা এবং ১ ভাগ হাইড্রোজেন পারক্সাইড মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্টটি গ্রাউটের রেখাগুলিতে সমানভাবে লাগিয়ে দিতে হবে এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। তারপর একটি ব্রাশ দিয়ে ঘষে জল দিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে মনে রাখবেন যতটা পেস্টের প্রয়োজন ততটা পরিমাণ পেস্টই তৈরি করবেন, কারণ মেশানোর পরে এর কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যায়। তাই রেখে দেওয়া পেস্ট পরে আর সেভাবে কাজ করবে না।
আরও পড়ুন: এবার বিদেশে রপ্তানি হবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, প্রস্তুতি রেলের
৫. ডিস সোপ এবং গরম জল
রান্নাঘরের ক্ষেত্রে টাইলসের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা বাথরুমের মতো সাবান বা ফাঙ্গাসের কারণে হয় না। এর কারণ হল রান্নার তেল-কালি এবং খাবারের কণা। এই ক্ষেত্রে, কড়া ধরনের অ্যাসিডিক ক্লিনারার চেয়ে বাসন ধোয়ার তরল সাবান এবং গরম জল অনেক বেশি কার্যকরী হয়। এক বালতি গরম জলে অল্প পরিমাণে বাসন ধোয়ার সাবান মিশিয়ে একটি ব্রাশ বা কাপড় দিয়ে ফাঁকগুলিতে মিশ্রণটি লাগিয়ে প্রায় ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ব্রাশের সাহায্যে ঘষে তুলে ফেলে ভিজে কাপড় দিয়ে টাইলসগুলি মুছে নিতে হবে। তবে শুধু টাইলস নয়, এটি রান্নাঘরের মেঝে এবং কাউন্টার টপের নীচের অংশ পরিষ্কার করার একটি নিরাপদ পদ্ধতি।










