আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গরম পড়তেই কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই বেড়ে যায় পিঁপড়ের (Ant) উৎপাত। রান্নাঘরের খাবার থেকে শুরু করে আলমারি, জানলার ধারে কিংবা ঘরের কোণে, সুযোগ পেলেই সার বেঁধে ঢুকে পড়ে তারা। খাবারের গন্ধ ও মিষ্টি জাতীয় জিনিসের টানে ঠিক লাইন দিয়ে চলে আসে পিঁপড়ের দল। তাই শুধু চোখে দেখা পিঁপড়ে মেরে ফেললেই সমস্যা পুরোপুরি মেটে না। তাদের খাবার ও জলের উৎস সরানোর পাশাপাশি যে পথ দিয়ে তারা ঘরে ঢুকছে, সেটিও বন্ধ করা জরুরি।
পিঁপড়ের উপদ্রব কমাতে কী কী নজর রাখবেন?
প্রথমেই রান্নাঘর ও ঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। খাবারের কণা, চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কোনও কিছু পড়ে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন। খোলা খাবার ঢাকনাযুক্ত কৌটো বা বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন এবং বাসনপত্র দীর্ঘক্ষণ অপরিষ্কার অবস্থায় ফেলে রাখবেন না। পোষ্যের খাবারও দীর্ঘক্ষণ বাইরে রেখে না দেওয়াই ভালো। একই সঙ্গে কল বা পাইপ থেকে জল পড়লে তা ঠিক করুন এবং সিঙ্ক বা অন্য কোথাও জল জমে থাকতে দেবেন না। খাবার ও জলের সহজ উৎস না পেলে বাড়িতে পিঁপড়ের আনাগোনাও নিজের থেকেই কমবে।
পিঁপড়ে যে পথে চলাচল করছে, সেই জায়গায় ভিনিগার ও জলের হালকা মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি স্প্রে বোতলে জল ও ভিনিগার মিশিয়ে পিঁপড়ের চলার জায়গায় ছড়িয়ে দিতে পারেন। একইভাবে জল ও বাসন মাজার লিকুইড সাবান মিশিয়ে পিঁপড়ের চলার পথ মুছে দিতে পারেন। এতে তাদের তৈরি রাসায়নিক গন্ধের পথটি সাময়িকভাবে নষ্ট হয় এবং একই জায়গা দিয়ে বারবার আসার প্রবণতা কমে যায়। তবে এই ধরনের ঘরোয়া উপায় সাধারণত সাময়িক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, আশেপাশে পিঁপড়ের বাসা থাকলে সেটা আলাদাভাবে নষ্ট করতে হবে।
বাড়িতে থাকা কিছু তীব্র গন্ধের মশলা ব্যবহার করেও পিঁপড়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। গোলমরিচ, তেজপাতা ও লবঙ্গ একটি ছোট কাপড়ের পুঁটলিতে ভরে পিঁপড়ের চলাচলের জায়গায় রাখা যেতে পারে। গোলমরিচের গুঁড়োও ব্যবহার করা যায়। তবে এগুলি কিন্তু পিঁপড়ে নির্মূল করার উপায় নয়। এতে কেবল সাময়িক স্বস্তি মিলবে। পাশাপাশি দেওয়াল, জানলা, দরজা, পাইপ বা রান্নাঘরের ক্যাবিনেটের আশপাশে যে ছোট ফাঁক দিয়ে পিঁপড়ে ঢুকছে, সেগুলি সিল করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: LPG সংযোগ ছাড়লেন ৬২ লক্ষ মানুষ! কারণ কী?
পিঁপড়ের উপদ্রব যদি অনেক বেশি হয় এবং ঘরোয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা প্রবেশপথ বন্ধ করলেও তেমন একটা লাভ হয় না। তখন অ্যান্ট বেট বা অ্যান্ট চক, নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রাসায়নিক ব্যবহার করলে প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। শিশু ও পোষ্য প্রাণী যাতে এর নাগাল না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সমস্যা গুরুতর হলে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোলের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ বিকল্প।










